যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে ও কানাডার নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নতুন বসতি সম্প্রসারণ পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তারা ইসরায়েলি সরকারের ‘ই-১’ বসতি প্রকল্পের জন্য নির্মাণ দরপত্র প্রকাশের সিদ্ধান্তকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করে তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েলের বসতি সম্প্রসারণের বিরোধিতা করে আসছে এবং এ বিষয়ে প্রকাশ্যে ও ব্যক্তিগতভাবে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। ই-১ বসতি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম তীরের মাঝখান দিয়ে একটি বিচ্ছিন্নতা তৈরি হবে। এতে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ভৌগোলিক সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনা আরও দুর্বল হয়ে পড়বে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলো অবৈধ। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।
পশ্চিম তীরে যখন গুরুতর অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে, বেসামরিক মানুষের ওপর ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং ফিলিস্তিনি অর্থনীতির ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, তখন বসতি সম্প্রসারণের এই সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
ইসরায়েল সরকারের প্রতি পরিকল্পনাটি অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন সাত দেশের নেতারা। তারা বলেন, এসব পদক্ষেপ শুধু শান্তির সম্ভাবনা থেকে আরও দূরে সরিয়ে দেবে না, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের অবস্থানকেও আরও দুর্বল করবে।
নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এসব প্রকল্পের দরপত্রে অংশ না নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, দরপত্রে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্ভাব্য আইনি ও সুনামগত পরিণতি সম্পর্কে সচেতন থাকা উচিত। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
বিবৃতিতে সাত দেশের নেতারা দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ, ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে তারা ভবিষ্যতেও কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।