ইরানের ওপর ‘ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা’ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, নতুন এই নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের ওপর সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হবে। এতে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রয়োজনীয়তাও কমে আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। খবর রয়টার্সের।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বেসেন্টের এ মন্তব্যের এক দিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধের’ হুমকি দেন। একই সঙ্গে ইরানকে ‘যেকোনো ধরনের সহায়তা’ দেওয়া দেশগুলোর বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক পরিণতির সতর্কবার্তাও দেন তিনি। নতুন নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত আগামী সপ্তাহে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন বেসেন্ট।
যুক্তরাষ্ট্রের এসব হুমকির পর বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম তিন সপ্তাহের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে। মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধের কারণে বিপুল পরিমাণ তেল সরবরাহ আটকে থাকায় বাজারে এমনিতেই চাপ রয়েছে। নতুন আর্থিক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর জন্য ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে চাইছে ওয়াশিংটন।
সিএনবিসিকে বেসেন্ট বলেন, ‘সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক চাপ’ প্রয়োগ করা হলে বড় ধরনের সামরিক অভিযান আবার শুরু করার প্রয়োজন নাও হতে পারে। তিনি বলেন, তেলের দাম বাড়ার বিষয়টির সঙ্গে নতুন নিষেধাজ্ঞার সরাসরি সম্পর্ক কেন তৈরি হয়েছে, তা তিনি নিশ্চিত নন।
প্রায় ছয় মাস ধরে চলা এই সংঘাতে ইতোমধ্যে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন। সংঘাতের প্রভাব উপসাগরীয় দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এ সময় ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করার সক্ষমতা দেখিয়েছে। ফেব্রুয়ারির আগে বিশ্বের মোট বাণিজ্যিক তেল পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে চলাচল করত।
সংঘাত বন্ধের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এ পর্যন্ত দুবার যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে—এপ্রিল ও জুনে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং ধীরে ধীরে সংঘাতের অবসানের পথ তৈরি করাই ছিল এসব চুক্তির লক্ষ্য। তবে উভয় যুদ্ধবিরতিই দ্রুত ভেঙে পড়ে।