রোমে হোটেল বিতর্ক

স্বাভাবিক ঘটনা বললেন জেমস

থামছে না ইতালির রোমে জেমসের কনসার্ট বিতর্ক। আলোচনা-সমালোচনার পাশাপাশি উঠেছে প্রতারণার অভিযোগও। সেই সঙ্গে উঠেছে প্রতারণার অভিযোগও। এসব অভিযোগ নিয়ে মুখপাত্র রুবাইয়াত ঠাকুর রবিনের পর হোটেল কক্ষ নোংরার বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন জেমস নিজেও। তিনি বলেন, তথ্যপ্রমাণ ছাড়া কোনো অভিযোগের ভিত্তি নেই। ভেনিসে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন ‘নগরবাউল’। তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে অতিথিশিল্পী হিসেবে একজন ইয়াং মিউজিশিয়ান গিটার ও কিবোর্ড বাজাতে আমেরিকা থেকে এসেছে। হোটেলগুলোর নিয়মই থাকে তাদের একটা নির্দিষ্ট সার্ভিস দেওয়ার। আর ও বয়সে তরুণ, হয়তো রুম পুরোপুরি গুছিয়ে বা ক্লিন করে রাখেনি। বিষয়টি বড় কিছু নয়। কেউ যদি প্রতিদিন রুম পরিষ্কার করতে না চায় কিংবা নোংরা হয়, ক্লিনিংয়ের তো একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া থাকেই। আর ইয়াং ছেলেমানুষ, অনেক মিউজিশিয়ানই তো রুম এলোমেলো রাখে, এটা এত বড় বিষয় করার কিছু নেই।’

হোটেল কর্র্তৃপক্ষের জরিমানা প্রসঙ্গে এই ব্যান্ড তারকা বলেন, ওরা যদি ২০০ ইউরোর মতো জরিমানা করেও থাকে, তবে সেটাও নতুন কিছু না। অনেকেই রুমে সিগারেট খেলে বা নিয়ম ভাঙলে ১০০, ২০০ বা ৫০০ ডলার ফাইন দিয়ে চলে যায়। একেক দেশের নিয়ম একেক রকম। এ নিয়ে যেভাবে কথা হচ্ছে, সত্যি বলতে এটা তেমন কোনো বড় ঘটনা বা ইস্যু হওয়ার মতো বিষয়ই না।’ অভিযোগ নিয়ে জেমসের ভাষ্য, ‘আমরা যখন ভেনিসে চলে এসেছি, তখন এই কথাগুলো উঠছে। এখন শুধু সোশ্যাল মিডিয়ার যুগ, সবারই স্বাধীনতা আছে সেখানে বিভিন্ন কিছু লেখার। মানুষ যা মন চায় লিখতে পারে, এমনকি বড় বড় রাজনীতিবিদদের নিয়েও তো কত কিছু লেখা হয়! কিন্তু তথ্যপ্রমাণ ছাড়া এসব কথার কোনো ভিত্তি থাকে না।’

জেমস আরও জানিয়েছেন, তারা স্বাভাবিক নিয়মেই হোটেলের চাবি জমা দিয়ে বের হয়েছেন। তার দাবি, জরিমানার বিষয়টি হোটেল কর্র্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে করা একটি অভিযোগ মাত্র। হোটেল থেকে নিয়ম না মেনে কিংবা রিসেপশনে যোগাযোগ না করে চলে যাওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করে জেমস বলেন, ইতালিতে এমন ঘটনা ঘটলে হোটেল কর্র্তৃপক্ষ অতিথিদের আটকানোর ব্যবস্থা নিতে পারত এবং তাদের পাসপোর্টও হোটেলে দেওয়া ছিল।’

ইতালির রোমে জেমসের কনসার্টটি ছিল গেল ১৬ আগস্টে। জেমস তার দলের লোকজনকে নিয়ে হোটেল ছাড়েন ১৯ অগাস্ট। কনসার্টের তিনদিন পর জেমস ও তার সঙ্গীদের নিয়ে অভিযোগ তোলেন কনসার্ট আয়োজক কর্র্তৃপক্ষ। কনসার্ট আয়োজনের দায়িত্বে ছিলেন রোমে স্থানীয় ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান এবিজেন-এর প্রধান হোসাইন আহমেদ মোয়াজ। জেমস ও তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন তিনি। ফেসবুক ভিডিওতেও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন মোয়াজ। তিনি বলেন, কনসার্টের জন্য চুক্তির ৩০ হাজার ইউরোর মধ্যে জেমসের দল ২৪ হাজার ইউরো বুঝে পেয়েছিল। বাকি ৬ হাজার ইউরো টিকিট বিক্রির ক্যাশ কাউন্টার থেকে সংগ্রহের কথা ছিল।

তার অভিযোগ, রাত ৯টায় জেমসের স্টেজে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু তার আগে ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে তার ম্যানেজার ক্যাশ কাউন্টারে গিয়ে জোর জবরদস্তি করে ‘২৪ হাজার ইউরো বুঝে নেওয়ার পর আরও অর্থ দাবি করেন’। সাড়ে ৯টা পর্যন্ত জেমস ‘আটকে রেখে স্টেজে উঠতে দেওয়া হয়নি’। একপর্যায়ে দর্শক হট্টগোল শুরু করলে পরিবেশ উত্তপ্ত হয়। পরবর্তী সময়ে বাধ্য হয়ে ক্যাশ কাউন্টার তাদের লোকের হাতে বুঝিয়ে দেওয়ার পর রাত প্রায় ১০টার দিকে জেমসকে মঞ্চে তোলা হয়। স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নৈশভোজসহ চুক্তির একাধিক শর্তভঙ্গের অভিযোগ তুলে মোয়াজ বলেন, টিকিট বিক্রির সঠিক হিসাব পাননি তিনি। জেমস ও তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে হোটেল কক্ষ নোংরা করে রেখে যাওয়ারও অভিযোগ করেন মোয়াজ।