ঢাকায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত ‘স্মরণে, সৃজনে, শ্রদ্ধায় ও শিল্পে কাজী নজরুল ইসলাম’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে কিউরেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মো. শাহীন রেজা রাসেল এবং সহকারী কিউরেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মো. এরশাদ হাসান। তাদের পরিকল্পনা, আন্তরিকতা ও সৃজনশীল উপস্থাপনায় প্রদর্শনীটি পেয়েছে নান্দনিক ও ব্যতিক্রমী রূপ। ‘অন্তরকথা, সংস্কৃতিচর্চা ও বিকাশ কেন্দ্র’-এর আয়োজনে এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় ২২ থেকে ২৪ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালার গ্যালারি-৭-এ তিন দিনব্যাপী এ আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শনী উন্মুক্ত থাকছে।
প্রদর্শনীতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, কর্ম, সময়, সংগ্রাম, সাহিত্য, সংগীত এবং বহুমাত্রিক সৃষ্টিশীলতার বিভিন্ন দিক আলোকচিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিটি আলোকচিত্রের বিন্যাস, বিষয় নির্বাচন ও উপস্থাপনায় নজরুলের জীবন ও দর্শনের সঙ্গে দর্শকের একটি অন্তরঙ্গ সংযোগ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। ‘অন্তরকথা, সংস্কৃতিচর্চা ও বিকাশ কেন্দ্র’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক রহিম সুমন বলেন, `কিউরেটর মো. শাহীন রেজা রাসেল ও সহকারী কিউরেটর মো. এরশাদ হাসানের আন্তরিকতাপূর্ণ সহযোগিতা, পরিশ্রম ও সৃজনশীল প্রচেষ্টার ফলেই এ আয়োজন অত্যন্ত সফল ও দর্শনীয় হয়ে উঠেছে। তাদের সমন্বিত কাজ প্রদর্শনীটিকে একটি ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।‘
২২ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে প্রদর্শনীর উদ্বোধন, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. আরিফুর রহমান, পিএইচডি, সাহিত্যিক ও গবেষক এবং অর্থ নিয়ন্ত্রক (সেনাবাহিনী), ঢাকা সেনানিবাস; কবি আলফ্রেড খোকন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন, মোহাম্মদ নাছিম মিয়া। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন কবি ও নজরুল গবেষক মজিদ মাহমুদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন।
প্রদর্শনীর পাশাপাশি আলোচনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে নজরুলের কবিতা, গান, নৃত্য ও মানবিক দর্শন নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে। ফলে এটি কেবল একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনী নয়, বরং নজরুলের জীবন, সৃষ্টিশীলতা ও দর্শনকে ঘিরে এক বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক আয়োজন হিসেবে দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করছে।