ফিফা আসিয়ান কাপে খেলবে বাংলাদেশ

আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবর উইন্ডোতে ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠেয় ফিফা আসিয়ান কাপে খেলার অনুমোদন পেয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। ভারতের সরে দাঁড়ানোর পর বাংলাদেশ টুর্নামেন্টে খেলতে আগ্রহ জানায়। তবে অপেক্ষা ছিল ফিফার আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের। সেই অনুমোদনই এখন মিলেছে। গতকাল কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় তা নিশ্চিত করে বাফুফে। 

সভা শেষে বাফুফের মিডিয়া কমিটির প্রধান আমিরুল ইসলাম বাবু ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘ফিফার কাছ থেকে আমরা গত রাতে ইতিবাচক খবর পেয়েছি। সেটি হলো, আসিয়ান কাপে খেলার অনুমতি পেয়েছি আমরা। আমরা ফিফাকে এরই মধ্যে নিশ্চিত করেছি যে আসিয়ান কাপে খেলব।’

ফিফা আরব কাপের আদলে ‘ফিফা আসিয়ান কাপ’ আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয় গত বছর; বিশ্বকাপের আগে এপ্রিলে ফিফা কংগ্রেসে চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। আসিয়ানভুক্ত ১১টি দেশের সঙ্গে চীন, ভারত ও হংকংকে টুর্নামেন্টটিতে খেলার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে এশিয়ান কাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে চীন ও ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলতে ভারত নাম সরিয়ে নেয়। চীনের জায়গায় পাকিস্তানকে নেওয়া হয়েছে আগেই, এবার ভারতের জায়গায় সুযোগ পেল বাংলাদেশ।

মোট ১৪টি দল অংশ নিলেও প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হবে দুটি ডিভিশনে। ৮টি দল নিয়ে  ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর প্রিমিয়ার ডিভিশন হবে ইন্দোনেশিয়ায় এবং ৬টি দল নিয়ে চ্যালেঞ্জ ডিভিশন হবে হংকংয়ে। বাংলাদেশ খেলার সুযোগ পেয়েছে প্রিমিয়ার ডিভিশনে, যেখানে ‘এ’ গ্রুপে তাদের সঙ্গী স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর। বি গ্রুপে থাকছে থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন ও পাকিস্তান।

শুধু গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচই নয়, গ্রুপে অবস্থান নির্ধারনী আরও একটি ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকবে বাংলাদেশের। দুই গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন খেলবে ফাইনালে, রানার্সআপরা তৃতীয় স্থান, তৃতীয় হওয়া দলগুলো পঞ্চম স্থান এবং চতুর্থ হওয়া দলগুলো সপ্তম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে। ফলে প্রতিটি দলের জন্যই চারটি ম্যাচ নিশ্চিত।

টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ায় বাফুফেকেও বড় ধরনের আর্থিক ব্যয়ের মুখে পড়তে হবে না। আয়োজকেরাই অংশগ্রহণকারী দলগুলোর যাতায়াত ও আবাসনের ব্যয় বহন করবে। পাশাপাশি দলগুলোকে অংশগ্রহণ বাবদ অর্থও দেওয়া হবে।

এ বছরের নভেম্বরে ঢাকায় হতে যাওয়া সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ সামনে রেখে জাতীয় দলের প্রস্তুতিতেও এই টুর্নামেন্ট বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের মতো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রস্তুতি ঝালিয়ে নিতে পারবে বাংলাদেশ।