সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের সম্মাননা দিল ডিএসসিসি

রাজধানীর ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বহুমাত্রিক সংস্কৃতি নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী চলচ্চিত্র উৎসব। ‘হৃদয়ে ঢাকা-৪১৬’ উদযাপনকে ঘিরে গতকাল শনিবার রাজধানীর মতিঝিলের মধুমিতা হলে এক বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ উৎসবের উদ্বোধন হয়। এ সময় ঢাকার সমৃদ্ধ অতীত ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের বরেণ্য চলচ্চিত্র শিল্পী, কলাকুশলী, সাংবাদিক ও ঐতিহ্যবাহী প্রেক্ষাগৃহকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন দেশে সিনেমা হলের সংখ্যা হ্রাসের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, একসময় দেশে সাড়ে আটশর বেশি সিনেমা হল চালু থাকলেও বর্তমানে তা কমে ১১৫টিতে নেমে এসেছে। ডিজিটাল যুগে স্মার্টফোন ও আধুনিক মাল্টিমিডিয়ার সহজলভ্যতায় দর্শকদের মনোজগতেও বড় পরিবর্তন এসেছে।

তাই কলাকুশলীদের দর্শক রুচি বিবেচনা করে সিনেমা নির্মাণ করতে হবে এবং এ খাতে সরকারকে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা প্রদান করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রশিল্পকে পুনরায় গতিশীল করতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে একযোগে কাজ করবে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের প্রেক্ষাগৃহের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, দর্শকদের ভালো সিনেমা উপহার দিতে পারলে আমাদের চলচ্চিত্রে আবারও সুদিন ফিরে আসবে।

সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, ঢাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে চলচ্চিত্রের গভীর সংযোগ রয়েছে। চলচ্চিত্র ছাড়া আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনকে যথাযথভাবে চিত্রায়িত করা সম্ভব নয়। রাজধানী হিসেবে ঢাকা প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী। এই শহরের গৌরবময় ইতিহাস ও সংস্কৃতি দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে দিতেই ডিএসসিসি এ উৎসবের আয়োজন করেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান এবং ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু।

অনুষ্ঠানে জীবন্ত কিংবদন্তি, মরণোত্তর সম্মাননা এবং সাংবাদিকতা ও ঐতিহ্যবাহী প্রেক্ষাগৃহ ক্যাটাগরিতে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। যারা সম্মাননা পেলেন জীবন্ত কিংবদন্তি : অভিনেত্রী সুজাতা আজিম, সুচন্দা, আনোয়ারা, ববিতা, নূতন, চম্পা, শাবনাজ; অভিনেতা উজ্জ্বল, সোহেল রানা, আলমগীর, খাজা নাঈম মুরাদ, আজাদ রহমান শাকিল; গীতিকার মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান, মনিরুজ্জামান মনির; সংগীতশিল্পী খুরশিদ আলম, আবিদা সুলতানা; সংগীত পরিচালক শেখ সাদী খান, শওকত আলী ইমন; চিত্রগ্রাহক রেজা লতিফ, শফিকুল ইসলাম স্বপন; পরিচালক ছটকু আহমেদ, হাফিজ উদ্দীন, দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, মতিন রহমান, সাইদুর রহমান সাঈদ ও আওকাত হোসেন।

মরণোত্তর সম্মাননা : পরিচালক আব্দুল জব্বার খান, নাজির আহমেদ, খান আতাউর রহমান, জহির রায়হান, এহতেশাম, মুস্তাফিজ, আমজাদ হোসেন, সুভাষ দত্ত, দিলীপ বিশ্বাস, চাষী নজরুল ইসলাম; অভিনেতা আবদুল মতিন, খলিল উল্লাহ খান, নায়করাজ রাজ্জাক, রোজী আফসারী, খান জয়নুল, প্রবীর মিত্র, বুলবুল আহমেদ; গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার; সংগীত পরিচালক আনোয়ার পারভেজ, আলাউদ্দীন আলী; সংগীতশিল্পী আজম খান, এন্ড্রু কিশোর এবং চিত্রগ্রাহক আফজাল চৌধুরী ও এমএ সামাদ।

সাংবাদিকতা ও ঐতিহ্যবাহী প্রেক্ষাগৃহ : চলচ্চিত্র সাংবাদিকতায় অবদান রাখা চিন্ময় মুৎসুদ্দী, রফিকুজ্জামান, অনুপম হায়াৎ, মাহমুদা চৌধুরী ও আবদুর রহমান। এ ছাড়া ঐতিহ্যবাহী লায়ন সিনেমা হল, আজাদ সিনেমা হল ও মধুমিতা সিনেমা হলকে বিশেষ সম্মাননা জানানো হয়।

বিনামূল্যে চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর সময়সূচি : মধুমিতা হলে প্রতিদিন দুটি প্রদর্শনী (বিকেল ৩টা ও সন্ধ্যা ৬টা) সর্বসাধারণের জন্য বিনামূল্যে উন্মুক্ত থাকবে। বিনামূল্যে সিনেমা দেখা যাবে ২২ আগস্ট : সন্ধ্যা ৬টা ‘মুখ ও মুখোশ’, ২৩ আগস্ট : বিকেল ৩টা ‘নবাব সিরাজদ্দৌলা’,  সন্ধ্যা ৬টা ‘১৩ নং ফেকু ওস্তাগার লেন’, ২৪ আগস্ট : বিকেল ৩টা ‘জীবন থেকে নেওয়া’, সন্ধ্যা ৬টা ‘নান্টু ঘটক’, ২৫ আগস্ট : বিকেল ৩টা ‘অশিক্ষিত’, সন্ধ্যা ৬টা ‘রংবাজ’, ২৬ আগস্ট : বিকেল ৩টা ‘সবুজ সাথী’,  সন্ধ্যা ৬টা ‘নাচের পুতুল’, ২৭ আগস্ট : বিকেল ৩টা ‘দূরদেশ’, সন্ধ্যা ৬টা ‘দহন’, ২৮ আগস্ট : বিকেল ৩টা ‘দোস্ত দুশমন’ এবং সন্ধ্যা ৬টা ‘বধু বিদায়’।