প্রচলিত আমলাতন্ত্র থেকে বেরিয়ে আসতে হবে: বিমানমন্ত্রী

প্রচলিত আমলাতন্ত্র থেকে বেরিয়ে আসতে হবে এমন মন্তব্য করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেছেন, মন্ত্রণালয়ের কাজকে আরও গতিশীল করতে উদ্ভাবনী পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। ভালো কাজের জন্য পুরস্কার এবং খারাপ কাজের জন্য তিরস্কারের ব্যবস্থাও থাকবে।

রবিবার (২৩ আগস্ট) সকালে মন্ত্রণালয়ে যোগ দেওয়ার পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, নতুন নেতৃত্বে টিম গঠন করে মন্ত্রণালয়ের কাজ এগিয়ে নিতে চান তিনি। মন্ত্রণালয় ও অধীন দপ্তর-সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা দূর করাকে নিজের প্রথম কাজ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন তিনি।

এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ভালো কাজের জন্য যেমন পুরস্কার রয়েছে, তেমনি খারাপ কাজের জন্য তিরস্কারের ব্যবস্থাও রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের কাজকে আরও গতিশীল করতে প্রচলিত আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে কাজ করতে হবে। উদ্ভাবনী পরিকল্পনা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, কাজের সুবিধার্থে সপ্তাহে একদিন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) বা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে অফিস করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

এর মাধ্যমে মন্ত্রণালয় ও অধীন সংস্থাগুলোর কার্যক্রম আরো কাছে থেকে সমন্বয় করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, তাকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ায় তিনি কৃতজ্ঞ। নেতৃত্বে পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া উল্লেখ করে তিনি নতুন নেতৃত্বে সবাইকে নিয়ে একটি কার্যকর টিম হিসেবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আগামী অক্টোবরে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালুর বিষয়ে তারা আশাবাদী। বিমানবন্দরটিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

কক্সবাজার বিমানবন্দরের উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তুতির কারণে সাম্প্রতিক সময় সেখানে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনায় পরিবর্তন এসেছে। এতে পর্যটক ও স্থানীয় যাত্রীদের ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। বিমানবন্দরটি পুরোপুরি চালু হলে কক্সবাজারের সঙ্গে দেশ-বিদেশের বিমান যোগাযোগ আরো বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে বিমান যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এ জন্য বিমানবন্দরের অবকাঠামো ও নিরাপত্তাব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের সফট ওপেনিং আগামী ১৬ ডিসেম্বর করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। এ বিষয়ে জাপানি একটি কোম্পানির সঙ্গে আগামী সেপ্টেম্বরে চুক্তি করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আগামী বছর ঢাকা-নিউইয়র্ক ফ্লাইট চালুর লক্ষ্যে কাজ চলছে। বিমানের বহরে শিগগিরই লিজ নেওয়া ১০টি উড়োজাহাজ যুক্ত করারও আশা রয়েছে।

ঈশ্বরদী বিমানবন্দর প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, পাবনার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য তেজস্ক্রিয় সামগ্রী পরিবহনের সুবিধার্থে সেখানে শিগগির ফ্লাইট চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। যশোর বিমানবন্দরে বাণিজ্যিক ফ্লাইট কমে যাওয়ায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের সঙ্গে ফ্লাইট চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বগুড়া বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে সকাল ৯টায় মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন নবনিযুক্ত মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। পরে মন্ত্রণালয় ও অধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি অংশ নেন।