জামালপুরে পিকআপভর্তি ঘোড়ার মাংস উদ্ধার, পাঁচজন আটক

জামালপুর সদর উপজেলার নরুন্দি বাজারে পিকআপভর্তি ঘোড়ার মাংস উদ্ধার করেছে নরুন্দি তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ। এ ঘটনায় পিকআপচালকসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।

রবিবার (২৩ আগস্ট) ভোররাত ৪টার দিকে নরুন্দি চকবাজার এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। নরুন্দি তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. নাজমুল হকের দিকনির্দেশনায় এএসআই নিজামীর নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়। এ সময় স্থানীয় লোকজনও পুলিশকে সহযোগিতা করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নরুন্দির মিরাপুর ঘাট এলাকা থেকে একটি পিকআপে করে ঘোড়ার মাংস ঢাকার যাত্রাবাড়ীর উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল। পথে নরুন্দি চকবাজার এলাকায় পুলিশ পিকআপটি আটক করে। পরে পিকআপে থাকা ১৮ বস্তা মাংস উদ্ধার করা হয়, যার পরিমাণ আনুমানিক ৯৫০ কেজি।

আটক ব্যক্তিরা হলেন—মো. জুয়েল, পিতা রমজান আলী; শহীদ মিয়া, পিতা নুরুল ইসলাম; আফজাল মিয়া, পিতা আবুল হোসেন; হুমায়ুন, পিতা মকবুল হোসেন এবং রাসেল মিয়া, পিতা আমির হোসেন। তাদের বাড়ি জামালপুর, টাঙ্গাইল, শরীয়তপুর ও ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় বলে জানা গেছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা মাংস ঢাকার বিভিন্ন হোটেলে বিক্রির উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল। এর আগে একইভাবে মাংস পরিবহনের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলেও জানা গেছে।

পরে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। মোবাইল কোর্টে তিনজনকে ছয় মাস করে এবং পিকআপের চালক ও হেলপারকে দুই মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মোট ১ লাখ ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন জামালপুরের সহকারী কমিশনার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ইমন হোসেন।

এ বিষয়ে নরুন্দি তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. নাজমুল হক জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটি এ ব্যবসা করে আসছিল আমরা এদের ধরার জন্য বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় অভিনয় চালাই কিন্তু আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রটি পালিয়ে যায়। গতরাত্রে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভোর চারটায় নরুন্দি মিরাপুর ঘাটে পিকআপে মাংস লোড হওয়ার খবর পেয়ে নন্দী বাজারে অবস্থান নেই, ঘটনাটি তদন্ত করে মাংসের উৎস ও এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।