সরকারপ্রধান ভারত সফর করবে কি না— সে বিষয়ে জনগণকে কোনো সুস্পষ্ট বার্তা দিতে পারছে না বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহবায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের বিষয়ে সুরাহা না হওয়া, শেখ হাসিনার বিচার, ওসমান হাদির খুনিদের বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর জাতির জন্য কল্যাণকর হবে না।
রবিবার (২৩ আগস্ট) রাতে সংবাদ ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে জোটের বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে ১১ দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতারা অংশ নেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, গত ৫ আগস্ট ভারতের দিল্লিতে আওয়ামী লীগকে প্রেস ব্রিফিং করতে দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে ভারত সরকারকে যথাযথ জবাবদিহির আওতায় আনতে বাংলাদেশ সরকার ব্যর্থ হয়েছে। এ বছর গঙ্গা চুক্তি শেষ হবে এবং অন্যান্য যে নদীর পানি বণ্টন চুক্তি, সীমান্ত হত্যা, পুশ-ইন ইত্যাদি বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করে বাংলাদেশকে নতুন পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন করতে হবে। আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে এটা করতে হবে।
বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, সরকার ছয় মাসে রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করে ১১ দলীয় ঐক্য। মন্ত্রিপরিষদে আরও পরিবর্তন আনতে হবে, কারণ বেশির ভাগ মন্ত্রীই ব্যর্থ।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদে পরিবর্তন করা হবে ভেবেছিলেন জানিয়ে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘তিনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) কিন্তু অলরেডি ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছেন। আইন-শৃঙ্খলার পরিবেশ মোটেও উন্নতি হয়নি। ফলে এই মন্ত্রণালয়গুলো কি করবেন যেগুলো আসলে ক্রমাগতভাবে ব্যর্থ হচ্ছে। সেগুলো নিয়ে সরকারের মন্ত্রণালয় পুনর্গঠিত করা উচিত। সে ক্ষেত্রে বিরোধী দল প্রয়োজনে সরকারকে নীতিগতভাবে সহায়তা করবে।’
১৮০ দিনে সরকারের অব্যবস্থাপনার কারণে জনগণের ভোগান্তি ব্যাপকভাবে বেড়েছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, জন আস্থা একেবারেই তলানিতে নেমে গিয়েছে। নির্বাচনের আগে তারা বলেছিল বিএনপির সরকার ক্ষমতায় আসলেই দেশে আইন-শৃঙ্খলার পরিবেশ ঠিক হবে। সেটি নিশ্চিত করতে তারা ব্যর্থ হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেটি অন্তর্বর্তী সরকার অথবা বিপ্লব পরবর্তী পরিস্থিতি থেকেও ভয়ানক রূপ ধারণ করেছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ছিল একটি অকার্যকর নির্বাচন। এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জনগণের সামনে তারা এই বিষয় তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন যে, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে গোপন ব্যালটে ভোটের ব্যবস্থা না করলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আসলে একটা প্রহসনের মতো হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ১১-দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানান, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় রাজধানীর শাপলা চত্বরে জমায়েত করবে ১১ দল। সেখান থেকে লংমার্চ করে যাবে চট্টগ্রামের উদ্দেশে। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুরমুখী লংমার্চ করবে বিরোধী দল।
খুলনা ও সিলেট বিভাগের লংমার্চের সময়সূচিতে পরিবর্তন এসেছে উল্লেখ করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, পূর্বঘোষিত ১০ অক্টোবরের খুলনামুখী লংমার্চ হবে ৩১ অক্টোবর। আর ২৪ অক্টোবরের সিলেটমুখী লংমার্চ হবে ২১ নভেম্বর। এ ছাড়া ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করার ঘোষণা দেওয়া হলেও সেটি ওই তারিখে হচ্ছে না। বিভাগভিত্তিক লংমার্চের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এরপর ঢাকায় মহাসমাবেশের তারিখ ঠিক করা হবে।