আবার সরগরম হলিউড

হরর, অ্যানিমেশন, সুপারহিরো, অ্যাকশন, ঐতিহাসিক সব মিলিয়ে রোমান্স ও ফ্যান্টাসিতে মেতেছে হলিউড। চলতি বছরটি একদম চেনা ছন্দ থেকে বেরিয়ে অন্য এক উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে দর্শক মহলে। আশাব্যঞ্জক খবর হলো, ২০২৬ সালে এসে তরুণ প্রজন্ম এবং জেনজি-রাও উৎসাহ নিয়ে ছুটছেন সিনেমা হলে। ২০২৬ সালটি যেন হলিউডের একটি সমৃদ্ধ বছর। ভৌতিক গল্প, শিশুতোষ, অ্যানিমেশনের উপস্থাপনাতেও ছিল বৈচিত্র্য। লিখেছেন জাহাঙ্গীর বিপ্লব

নতুন বছরের শুরুতেই যেমন ধারণা করা হয়েছিল, আট মাসেই সেই ধারণাকে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। এই আট মাসে বেশ কয়েকটি সিনেমাই ব্যবসায়িক দিক থেকে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। এই তালিকায় সবার আগে নাম আসে সাম্প্রতিক সময়ে মুক্তি পাওয়া মাইকেল, দ্য ওডিসি, স্পাইডারম্যানের। এই তিন সিনেমার সুবাদেই বিশ্বব্যাপী বক্স অফিস আয় ৫০ হাজার কোটি টাকা বা ১.১ বিলিয়ন ডলার, যা নতুন রেকর্ড গড়েছে। বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত মাত্র আটটি সিনেমা ২ বিলিয়ন ডলার আয়ের সম্মানজনক তালিকায় স্থান করে নিতে পেরেছে। সেই অভিজাত বক্স অফিস ক্লাবেরই সর্বশেষে এবং অন্যতম গর্বিত সদস্য হিসেবে যুক্ত হলো নতুন এই স্পাইডারম্যান সিনেমাটি। এর আগে এই অনবদ্য মাইলফলক স্পর্শ করেছিল ‘অ্যাভাটার’ (২.৯ বিলিয়ন), মার্ভেলের ‘অ্যাভেঞ্জার্স : এন্ডগেম’ (২.৭ বিলিয়ন), ‘অ্যাভাটার : দ্য ওয়ে অব ওয়াটার’ (২.৩ বিলিয়ন), ক্ল্যাসিক রোমান্স ‘টাইটানিক’ (২.২ বিলিয়ন), ‘স্টার ওয়ার্স : দ্য ফোর্স অ্যাওয়াকেন্স’ (২.০৭ বিলিয়ন) এবং ‘অ্যাভেঞ্জার্স : ইনফিনিটি ওয়ার’ (২.০৩ বিলিয়ন)।

সর্বশেষ চলতি সপ্তাহে (গত শুক্রবার) মুক্তি পাওয়া ভৌতিক ঘরানার জনপ্রিয় ‘ইনসিডিয়াস’ ফ্র্যাঞ্চাইজির নতুন কিস্তি ‘ইনসিডিয়াস : আউট অব দ্য ফারদার’ এবং জনপ্রিয় অ্যানিমেশন সিরিজের ছবি ‘পাও পেট্রোল : দ্য ডাইনো মুভি’ও প্রত্যাশা অনুযায়ী ব্যবসা করছে। সনি পিকচার্সের অতিপ্রাকৃতিক ভৌতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘ইনসিডিয়াস’-এর ষষ্ঠ কিস্তি ‘আউট অব দ্য ফারদার’ পরিচালনা করেছেন জ্যাকব চেজ। ২০২৩ সালের ‘দ্য রেড ডোর’-এর পর নির্মিত এই ছবিতে জেমা নামের এক তরুণী মায়ের গল্প তুলে ধরা হয়েছে, যে আবিষ্কার করে তার ‘দ্য ফারদার’ নামক অতিলৌকিক রাজ্যে প্রবেশের বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে। তবে সেই ক্ষমতা ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে ভয়ংকর অতিপ্রাকৃত সত্তারা বাস্তব জগতে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলে চরম বিপদে পড়ে তার পরিবার। চলচ্চিত্রটিতে জেমা চরিত্রে অভিনয় করেছেন অ্যামেলিয়া ইভ। এছাড়া অন্যান্য চরিত্রে রয়েছেন ব্র্যান্ডন পেরিয়া, মেইজি রিচার্ডসন-সেলার্স এবং লিন শে।

অ্যানিমেশনপ্রেমীদের আনন্দ দিচ্ছে  ‘পাও পেট্রোল: দ্য ডাইনো মুভি’। ক্যাল ব্রুঙ্কার পরিচালিত এই চলচ্চিত্রটি ২০২৩ সালের হিট ছবি ‘পাও পেট্রোল: দ্য মাইটি মুভি’-এর সিক্যুয়েল। গল্পের শুরুতে একটি রহস্যময় ঝড়ের কবলে পড়ে পাও পেট্রোল দলটি এক অজানা, ডাইনোসর অধ্যুষিত দ্বীপে গিয়ে পড়ে। সেখানে নতুন বন্ধু ‘জম্বি’র সহায়তায় দ্বীপটিকে সুপ্ত আগ্নেয়গিরি ও খলনায়ক মেয়র হামডিঙ্গারের হাত থেকে বাঁচাতে এক ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে নামে তারা। সিনেমাটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন কার্টার ইয়ং, ম্যাকেনা গ্রেস, টেরি ক্রুস, জেনিফার হাডসন ও স্নুপ ডগসহ বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় শিল্পী। ছবিটিতে বিখ্যাত ব্যান্ড ‘ব্যাকস্ট্রিট বয়েজ’-এর নতুন গানও যুক্ত করা হয়েছে।

এ বছরেই হলিউডের পর্দায় মুখোমুখি হয় নস্টালজিয়া ও ভবিষ্যৎ, সুপার হিরো ও সাহিত্য, মানবিক সংকট ও মহাকাশজুড়ে বিস্তৃত কল্পনা। বছরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মুক্তির তালিকা দেখে স্পষ্ট এটি কেবল সিনেমার বছর নয়, এটি হলিউডের আত্মপরীক্ষার সময়। জানুয়ারির শুরুতেই দর্শক দেখতে পান ‘২৮ ইয়ারস লেটার : দ্য ব্রোন টেম্পল’। বসন্তের শুরুতে মুক্তি পাওয়া ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’ সিনেমায় রায়ান গসলিংয়ের স্মৃতিভ্রষ্ট মহাকাশচারী যখন নিজের পরিচয় খুঁজতে খুঁজতে পৃথিবী বাঁচানোর দায়িত্ব নেয়, তখন বিজ্ঞান আর আবেগ একাকার হয়ে যায়। এটি কেবল সাই-ফাই নয়, মানুষের টিকে থাকার এক অন্তরঙ্গ কাহিনি।

এপ্রিলে সম্পর্কের ভাঙন ও মানসিক টানাপড়েন নিয়ে মুক্তি পায় ‘দ্য ড্রামা’। জেন্ডায়া ও রবার্ট প্যাটিনসনের অভিনয়ে এই ছবি প্রেমকে রূপকথা নয়; বরং ভয়ংকর বাস্তবতা হিসেবে তুলে ধরে। একই মাসে ‘রেডি অর নট ২’ আবারও প্রমাণ করে হরর আর ব্যঙ্গ একসঙ্গে হলে তা কতটা নির্মম হতে পারে। পরের মাসে মুক্তি পায় বিশ্বসংগীতের কিংবদন্তি মাইকেল জ্যাকসনকে নিয়ে নির্মিত সিনেমা ‘মাইকেল’। এই সিনেমায় শুধু মাইকেল জ্যাকসনের উত্থান নয়; বরং তার বিতর্ক, একাকিত্ব ও অসামান্য প্রতিভার গল্প তুলে ধরা হয়েছে। বাস্তব জীবনের ভাতিজা জাফার জ্যাকসনের অভিনয় ছবিটিকে করে তুলেছে আরও আবেগঘন। একই ধারাবাহিকতা চলতে থাকে মে-জুন মাসেও।