যশোরের মনিরামপুরে বর্ষা মৌসুমকে ঘিরে চোখের আড়ালে গড়ে উঠেছে রেইনট্রি বা শিশুগাছের আঠার বাণিজ্য। গাছের কাণ্ড থেকে সংগ্রহ করা এই আঠা মোটা অঙ্কে বিক্রি হচ্ছে। এ ব্যবসায় বর্ষা মৌসুমের আগেই লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে। স্থানীয় কারও কারও দাবি, সংগৃহীত আঠা ভারতে পাচার হচ্ছে।
মনিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে রেইনট্রি বা শিশুগাছ রয়েছে। এসব গাছের প্রশাখা ভেঙে এক শ্রেণির মানুষ আঠা সংগ্রহ করছেন। বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই গাছের মালিকদের কাছ থেকে আগাম টাকা দিয়ে গাছ কেনা হচ্ছে।
আঠা ব্যবসায়ী সিরাজুল বলেন, গাছের মালিককে আগাম টাকা দেওয়া হয়। গাছের ধরন অনুযায়ী ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকায় গাছ কেনা হয়। বর্ষার শেষের দিকে গাছে যখন আঠার পরিমাণ বেশি হয়, তখন তা সংগ্রহ করে বিক্রি করা হয়।
গবেষকদের মতে, বর্ষাকালে মেলিবাগ ও অ্যাফিডজাতীয় পোকামাকড় সক্রিয় থাকে। এসব পোকা গাছের পাতা ও কচি শাখায় বসে রস শোষণ করে এবং ‘হানিডিউ’ নামে মিষ্টি আঠালো পদার্থ নিঃসরণ করে। গাছের নিজস্ব গাম বা রজনের সঙ্গে এটি মিশে লালচে আঠালো পদার্থ তৈরি হয়। পরে সূর্যের আলো ও বাতাসের সংস্পর্শে অক্সিডাইজ হয়ে এর রং আরও গাঢ় লাল হয়। কচলালে অনেক সময় এটি রক্তের মতো দেখায়। এতে থাকা ট্যানিনজাতীয় যৌগ রংটিকে স্থায়ী করে।
রেইনট্রি বা শিশুগাছের মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারাও এই আঠা বিক্রি করেন। তবে আঠা সংগ্রহের সময় গাছের ডাল ভেঙে নেওয়ায় গাছের ক্ষতি হচ্ছে। ডাল শুকিয়ে গেলে গাছের কাণ্ড মোটা হলেও ব্যাপারীরা কম দাম বলেন। এতে গাছের মালিকদের লোকসান হয়।
আঠা সংগ্রহ করতে গিয়ে গাছের শাখা ভেঙে ফেলার কারণে শিশুগাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। শুকিয়ে যাওয়া ডালে জীবাণুর সংক্রমণও দেখা দিতে পারে। পরিবেশবাদীরা বলছেন, স্বল্পমেয়াদি লাভের আশায় এভাবে রেইনট্রি গাছ নষ্ট করা হলে ভবিষ্যতে তা পরিবেশের জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করতে পারে।
মনিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন সড়কের দুই পাশে ৩০ থেকে ৬০ বছরের পুরোনো অনেক শিশুগাছ রয়েছে। এসব গাছ থেকেও প্রকাশ্যে আঠা সংগ্রহ করে মোটা অঙ্কে বিক্রি করা হচ্ছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রকাশ্যে এমন কর্মকাণ্ড চললেও বিষয়টি দেখার যেন কেউ নেই।
এ বিষয়ে উপজেলা বন প্রহরি আবু তাহের বলেন, এসব বিষয় দেখা তাদের কাজ নয়। বিষয়টি সম্পর্কে উপজেলা প্রশাসনের কাছেও সঠিক কোনো তথ্য নেই।
মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম্রাট হোসেন দৈনিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ ধরনের আঠা সংগ্রহ করা অপরাধ এবং এর কোনো অনুমতি দেওয়া হয় না। বিষয়টি জানতে পারলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।