কাদা মাড়িয়ে যেতে হয় স্কুলে, ভোগান্তিতে ১২৬ শিক্ষার্থী

সামান্য বৃষ্টি হলেই চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পরে সড়ক। হাতে জুতা ও প্যান্ট গুটিয়ে যেতে হয় বিদ্যালয়ে। পিছলে পড়ে বই-খাতা আর পোশাক নষ্ট হওয়ার ভয়ে বর্ষা মৌসুমে স্কুলে যেতে চায় না শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন ধরে এমন ভোগান্তি পোহাচ্ছেন পাবনার চাটমোহর উপজেলার হান্ডিয়াল ইউনিয়নের ২নং রায়নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে জানা যায়, ১৯২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই স্কুলটির সড়ক এখনও পাকা হয়নি, ফলে দেড় কিলোমিটার এই কাঁচা সড়ক দিয়ে যাতায়াতে চড়ম ভোগান্তিতে পরেছে স্কুলের ১২৬ শিক্ষার্থী। 

স্থানীয়দের ভাষ্য, বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই কাদাপানিতে একাকার হয়ে যায় পুরো পথ। বন্যার পানি বৃদ্ধি পেলে ডুবে যায় সড়ক, সেসময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডিঙি নৌকায় করে স্কুলে যায় শিক্ষার্থীরা। তারা জানান, শুধু স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী নয় এই সড়ক দিয়েই যাতায়াত করে বড় বেলাই, রায়নগর, বিরাইনগর সহ কেশবপুর এলাকার কয়েক হাজার মানুষ। পাকা রাস্তা না হওয়ায় বছরের পর বছর এমন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন তারা। 

স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল বলেন, এই সড়ক দিয়ে শুধু স্কুলের শিক্ষার্থীরা নয়, দুই-তিন গ্রামের মানুষ যাতায়াত করে। তিনি বলেন, এই গ্রাম দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচল না করায় মুমূর্ষ ও প্রসূতি মায়েদের হাসপাতালে নিতে চড়ম ভোগান্তিতে পরতে হয়। শুধু তাই নয় কৃষি প্রধান এলাকা হওয়ায় কৃষকের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিতেও দ্বিগুণ খরচ বেড়ে যায় বলে জানান তিনি।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রুহান জানায়, রাস্তায় অনেক কাদা থাকে। জুতা পরে হাঁটলে পিছলে পড়ে যেতে হয়, তাই বাধ্য হয়ে জুতা হাতে নিয়ে স্কুলে যাই। কিন্তু কাদায় পড়ে জামা নষ্ট হলে আবার বাড়িতে ফিরে যেতে হয়।

একই ক্লাসের শিক্ষার্থী জুবায়েদা জানায়, প্রতিদিন এই পথ দিয়েই স্কুলে যেতে হয় তাদের। কিন্তু একটু বৃষ্টি হলেই এই পথ দিয়ে তারা আর স্কুলে যেতে পারে না। তাই স্কুলের এই সড়কটি দ্রুত পাকা করণের দাবি জানায় সে।

​বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নুরে আলম জানান, কাদাযুক্ত সড়ক দিয়ে আসতে গিয়ে প্রায়ই শিশুরা পিছলে পড়ে যায়। পোশাক ও বই-খাতা নোংরা হওয়ায় অনেকেই মাঝপথ থেকে বাড়ি ফিরে যায়। টানা কয়েক মাস উপস্থিতির হার কম থাকায় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মারাত্মকভাবে পিছিয়ে পড়ছে। তিনি জানান, আগে স্কুলে দুই থেকে আড়াই’শ ছাত্র-ছাত্রী ছিলো। পাকা সড়ক না থাকায় এখন তারা বিভিন্ন স্কুলে ভর্তি হয়েছে।

​সন্তানদের নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন অভিভাবকরাও। তাদের ভাষ্যমতে, কাদার কারণে শিশুরা স্কুলে যেতে চায় না। অভিভাবকরা অনেক সময় বাধ্য হয়েই সন্তানদের কোলে নিয়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছে দেয়। 

​বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইদুল ইসলাম সরকার বলেন, দীর্ঘ এগারো বছর যাবত এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছি। তিনি বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই এই সড়কটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে যায়। সেসময় গাড়ি তো দূরের কথা হেটেও বিদ্যালয়ে যেতে পারি না। তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠানে কেউ চাকরি করেত চান না। ৬-৭ বছর আগেও মাত্র দুই জন শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয় চালিয়েছি। বর্তমানে ১টি শুন্যপদ সহ পাঁচজন শিক্ষক রয়েছে। এরমধ্য আরেকজন বদলি আবেদন করেছে তিনি বদলি হলে চারজন শিক্ষক থাকবে। তাই এই দুর্ভোগ লাঘবে এবং শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে তিনি কাঁচা সড়কটি পাকা করণের দাবি জানান। 

উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুল গনি বলেন, বিদ্যালয়ের সড়কটি পাকা করণের জন্য আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলে এবছরই কাজ শুরু করা হবে। 

চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুসা নাসের চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীদের এই দুর্ভোগের বিষয়টি অবগত হয়েছি। সড়কটি পাকা করণে খুব দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।