ব্রাজিল ম্যাচের সূচি মেলাতে ফিফার সঙ্গে কথা বলবে বাফুফে

ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের বাংলাদেশে খেলার সম্ভাবনা নিয়ে দেশের ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে। রবিবার পাচ সদস্যের একটি ব্রাজিলীয় প্রতিনিধি দল ঢাকায় এসে জাতীয় স্টেডিয়াম ও বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনা পরিদর্শন করেন। ভেন্যুর মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশের পাশাপাশি তারা কিছু পরিকাঠামোগত পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন। পরে তারা বাফুফে সভাপতির সাথেও কথা বলেন। 

সফরের পরদিন, আজ (২৪ আগস্ট) বাফুফে ভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন নির্বাহী কমিটির সদস্য সাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়া শাহীন। ৬ অক্টোবর ম্যাচটি নিশ্চিত বলে কথা হচ্ছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে, তবে তিনি স্পষ্ট জানান যে কোনো তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি, 'ব্রাজিলের পক্ষ থেকে ৫ বা ৬ তারিখে বাংলাদেশে একটি ম্যাচ খেলার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের নিজস্ব সূচি, বিশেষ করে আসিয়ান কাপের সম্ভাব্য সূচির সঙ্গে বিষয়টি সমন্বয় করতে হবে।'

ব্রাজিলের মতো দলকে এনে ম্যাচ আয়োজন করতে কি ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা খরচ হতে পারে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শাহীন বলেন, 'এমন বড় আন্তর্জাতিক ইভেন্টে খরচ হওয়াটা স্বাভাবিক। এটি কেবল বাফুফের একক বিষয় নয়, জাতীয় পর্যায়ের বিষয়। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল এ বিষয়ে ক্রীড়ামন্ত্রী ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং সরকারি সহায়তায় অর্থের বিষয়টি সমাধান করা সম্ভব হবে।'

অর্থের চেয়েও এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দুই দেশের জাতীয় দলের খেলার সময়সূচি সমন্বয় করা। আগামী ৩ অক্টোবর ভারতের কলকাতায় ম্যাচ শেষ করে ৫ বা ৬ অক্টোবর ঢাকায় খেলার ইচ্ছা তাদের। ওদিকে বাংলাদেশ ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ইন্দোনেশিয়ায় শুরু হচ্ছে ফিফা আসিয়ান কাপে খেলবে, যা চলবে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত।

বাংলাদেশ আসিয়ান কাপে ব্যস্ত থাকবে বলে এখনো সরাসরি হ্যাঁ বলা সম্ভব হয়নি বলে জানান শাহীন। তিন বলেন, বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল ফিফার সঙ্গে কথা বলে এমন সমাধান খুঁজবেন, যাতে বাংলাদেশ আসিয়ান কাপ ও ব্রাজিলের ম্যাচ—দুটিতেই অংশ নিতে পারে।

ব্রাজিলের প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফরকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে বাফুফে। বাংলাদেশে এর আগে ২০১১ সালে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা জাতীয় দল এসেছিল। সেই উদাহরণ সামনে রেখে ব্রাজিলের মতো দলের বিপক্ষে ম্যাচ আয়োজন হলে দেশের ফুটবলে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, সেটিও আলোচনায় এসেছে। শাহীনের বক্তব্য, ‘বাংলাদেশে ব্রাজিলের বিশাল সমর্থকগোষ্ঠীই এই ম্যাচ আয়োজনের ব্যাপারে ব্রাজিলের আগ্রহের অন্যতম প্রধান কারণ। ব্রাজিলের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপানসহ বিভিন্ন দেশে প্রীতি ম্যাচ খেলতে গিয়ে তারা বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি দর্শককে ব্রাজিলের সমর্থক হিসেবে দেখেছেন। বাংলাদেশেও ব্রাজিলের বিশাল ফ্যানবেজ রয়েছে।’ এই সমর্থকগোষ্ঠীকে আরও বিকশিত করার লক্ষ্যেই বাংলাদেশে একটি ম্যাচ খেলার ব্যাপারে ব্রাজিল আগ্রহী হয়েছে বলে জানান শাহীন।