ভিয়েতনাম-চীনে টাইফুন নারার তাণ্ডব

টাইফুন নারার প্রভাবে উত্তর ভিয়েতনাম ও চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়াংসি প্রদেশে বন্যা ও ভূমিধস দেখা দিয়েছে। টানা ভারী বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিভিন্ন অবকাঠামো ও কৃষিজমি।

চীনে বন্যার পানি বেড়ে যাওয়ায় প্রায় ৫৪ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৮ হাজার ৮৭ জনকে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে।

অন্যদিকে, উত্তর ভিয়েতনামে নারার প্রভাবে কয়েক দিন ধরে চলা ভারী বৃষ্টিতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে ৪ হাজার ৩০০টির বেশি পরিবার। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ভিয়েতনামের পার্বত্য লাং সন ও কাও বাং প্রদেশে ২৩৬ থেকে ৩০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও ভূমিধসের সৃষ্টি হয়েছে।

টাইফুন নারা বর্তমানে বেইবু উপসাগরের ওপর অবস্থান করছে। এটি টনকিন উপসাগর নামেও পরিচিত। আবহাওয়া কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নারার স্থলভাগে আঘাত হানার সম্ভাবনা নেই। তবে এর প্রভাবে উত্তর ভিয়েতনামে আরও ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।

বন্যায় ভিয়েতনামের কুয়াং নিনহ প্রদেশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় থাকা হা লং বে এই প্রদেশেই অবস্থিত। বন্যার পানিতে শহরের বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে যাওয়ায় পর্যটন, মাছ ধরা ও পরিবহনব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টাইফুনের প্রভাবে স্বাভাবিক শিক্ষা ও দাপ্তরিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে প্রায় ৫৫ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে ১০ হাজার হেক্টরের বেশি ধান ও অন্যান্য ফসল নষ্ট হয়েছে।

চীনেও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। দেশটির ১৫টি নদীর পানি বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সিসিটিভির প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, চোংজুও শহরের বিভিন্ন এলাকা বাদামি রঙের বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিতে সড়ক ও নিচু ভবনগুলোর কিছু অংশ ডুবে রয়েছে।

উদ্ধারকর্মীরা হাঁটুপানির মধ্য দিয়ে হেঁটে এবং কোথাও নৌকা ব্যবহার করে পানিবন্দি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।

সিসিটিভি জানিয়েছে, চীনের গুয়াংসি, গুয়াংডং, হাইনান ও ফুজিয়ান প্রদেশে বুধবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।