ইরানকে আলোচনায় ফেরাতে তেহরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে ‘এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় আর্থিক অভিযান’ চালানোর প্রস্তুতির মধ্যেই মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়ে তেহরানে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। সোমবার (২৪ আগস্ট) তিনি ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন বলে জানিয়েছে ইরানি গণমাধ্যম। খবর রয়টার্সের। 

ইরানের সঙ্গে আলোচনায় পাকিস্তানের এই উদ্যোগের সময়ই যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বাণিজ্যিক অংশীদারদের লক্ষ্য করে কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাকিস্তান জানিয়েছে, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই মুনিরের এই সফর। পাকিস্তানের একটি সূত্র জানিয়েছে, তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন।

পাকিস্তানের দুটি সূত্র জানিয়েছে, গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আসিম মুনিরকে ফোন করেছিলেন। আরেকটি সূত্রের দাবি, ফোনালাপে ট্রাম্পের প্রধান অনুরোধ ছিল ইরানকে আবারও আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা। তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন। সোমবার দুপুর ১টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা) সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের।

রোববার ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস-এ প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে বেসেন্ট লিখেছেন, সোমবার ভোর থেকে ইরানের বিরুদ্ধে ‘কোনো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নেওয়া এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় আর্থিক অভিযান’ শুরু হবে। ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই ইরান প্রায় ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে।

নতুন পদক্ষেপের ধরন বিস্তারিতভাবে না জানালেও বেসেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের অর্থনীতি ও আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্ক রাখা দেশগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে পড়তে পারে। ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও আর্থিক লেনদেন অব্যাহত রাখা দেশগুলোকে এর পরিণতি বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ অব্যাহত থাকলে পারস্য উপসাগর থেকে সব ধরনের তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।

এদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর প্রতিও নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে তেহরান। ইরানের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজকে প্রণালিটি অতিক্রম না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশটি ৪৫টি জাহাজের একটি তালিকাও প্রকাশ করেছে, যেগুলো তাদের নিয়ম লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ। এসব জাহাজের সঙ্গে অন্য কোনো জাহাজের পণ্য বা জ্বালানি স্থানান্তর করা হলে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দিয়েছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক বাহিনী কয়েক সপ্তাহ ধরে পরস্পরের ওপর বিমান হামলা চালায়নি। তবে ছয় মাস ধরে চলা সংঘাত অবসানে দুই দেশের সর্বশেষ সরাসরি বৈঠক হয়েছিল জুনে। এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।

সোমবার সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দরের পশ্চিমে লোহিত সাগরে একটি তেলের ট্যাংকারে একটি বস্তু আঘাত হানলে জাহাজটির মূল ডেকে আগুন ধরে যায় বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস। তবে হামলাটি কারা চালিয়েছে, তা জানানো হয়নি। গত মাসে ইরানের মিত্র হুতিরা জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগর দিয়ে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি করা হলে তা বন্ধ করে দেওয়া হবে।