ঈশ্বরগঞ্জে সার মজুত, বিক্রেতার এক মাসের জেল

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উচাখিলা বাজারে তিনটি গোডাউনে ৩১ দশমিক ৮ টন সার অবৈধভাবে মজুত রাখার অভিযোগে নূর-এ-আলম নামের এক খুচরা সার বিক্রেতাকে এক মাসের কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই অভিযানে শ্যামল চন্দ্র সাহা নামের আরেক ব্যক্তিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বেলা ১টা ৪৫ মিনিট থেকে ২টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে উচাখিলা বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযানটি পরিচালনা করেন। প্রসিকিউশন দেন ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিপা রানী চৌহান। অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন ঈশ্বরগঞ্জ থানা-পুলিশের একটি দল।

অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নূর-এ-আলমের তিনটি গোডাউনে ইউরিয়া, ডিএপি ও এমওপি সার মজুত পাওয়া যায়। এর মধ্যে ইউরিয়া ৩৯১ বস্তা, ডিএপি ১৬০ বস্তা ও এমওপি ৮৫ বস্তা। প্রতিটি বস্তায় ৫০ কেজি হিসাবে মোট ৬৩৬ বস্তা বা ৩১ দশমিক ৮ টন সার মজুত ছিল।

নূর-এ-আলমের খুচরা সার বিক্রির বৈধ লাইসেন্স রয়েছে। তবে অভিযানের সময় তাঁর প্রতিষ্ঠানে বিক্রির ক্যাশ মেমো পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি মজুতের হিসাবসংবলিত রেজিস্টারও সংরক্ষণ করা হয়নি। এসব অনিয়মের কারণে সার (ব্যবস্থাপনা) আইন, ২০০৬-এর ১২ ধারায় তাঁকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা ও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলেই জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়েছে।

অন্যদিকে, রেজিস্টার সংরক্ষণ না করায় শ্যামল চন্দ্র সাহাকে একই আইনে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

স্থানীয় কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করেন, নূর-এ-আলমের দোকানে সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করা হচ্ছিল। অভিযানে জব্দ করা ৬৩৬ বস্তা সার স্থানীয় সার ডিলার শামসুল হকের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। এসব সার সরকারি নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

ইউএনও সানজিদা রহমান বলেন, ‘গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সার অবৈধভাবে মজুত অবস্থায় পাওয়া গেছে। তাদের বিধি মোতাবেক কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। যাতে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে বিক্রি করা না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি রয়েছে। জব্দ করা সার অনুমোদিত ডিলারের মাধ্যমে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হবে। অবৈধ মজুত বা নির্ধারিত দামের বেশি নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’