দিঘলিয়ায় পল্লী চিকিৎসকের বাড়িতে গুলি বর্ষণ, চাঁদা দাবি

খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার লক্ষীকাঠি গ্রামে পল্লী চিকিৎসকের বাড়িতে গভীর রাতে গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

রবিবার (২৩ আগস্ট) রাত ২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। ওই পল্লী চিকিৎসকের নাম অরবিন্দ বিশ্বাস। সন্ত্রাসীরা তার বাড়িতে হামলা করার আগে সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে তার কাছে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে।

দিঘলিয়া থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অরবিন্দ বিশ্বাসের  বাড়িতে গভীর রাত্রে গুলির ঘটনা ঘটেছে। সকালে খবর পেয়ে আমরা তার বাড়িতে যেয়ে ২টি শর্টগানের গুলির খোসা উদ্ধার করি। সন্ত্রাসীদের ভয়ে ডাঃ অরবিন্দু বিশ্বাস পরিবারসহ বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।

এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে,  গত রবিবার রাত ২টার দিকে ৮/১০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল লক্ষীকাঠি গ্রামে পল্লী চিকিৎসক ডাঃ অরবিন্দু বিশ্বাসের বাড়িতে পরপর কয়েকটি ককলেট ও গুলিবর্ষণ করে। এতে ডাঃ অরবিন্দু বিশ্বাসের বাড়ির জানালার থাইগ্লাস ভেঙে ভেঙে যায়। ককলেটের প্রচন্ড শব্দে বাড়ি ও গ্রামের লোকজন ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। এসময় গুলিবর্ষণকারিরা ডাঃ অরবিন্দুর নাম ধরে হুমকি দিয়ে চলে যায়।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, ডাঃ অরবিন্দু বিশ্বাস পার্শ্ববর্তী কালিয়া উপজেলার পিরোলী বাজারে "গ্রামীণ চিকিৎসা কেন্দ্র" নামের একটি চেম্বার খুলে চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেন। সম্প্রতি একটি মহল ডাঃ অরবিন্দু বিশ্বাসের বিরুদ্ধে নারী কেলেংকারীর অভিযোগ এনে মোটা অংকের টাকা দাবি করে । সামাজিক মান-মর্যাদা রক্ষায় তিনি ওই চক্রকে মোটা অংকের টাকা প্রদান করেন।

চক্রটি পুনরায়  সন্ধ্যায় তার ছেলে শুভ বিশ্বাসের কাছে পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির পরিচয় দিয়ে আরো ৫ লক্ষ টাকা দাবি করে। না দিলে এবং কাউকে জানালে পুরো পরিবারকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় সন্ত্রাসীরা।

দিঘলিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ হাওলাদার সানোয়ার হুসাইন মাসুম বলেন, ডাঃ অরবিন্দু বিশ্বাসকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে বলা হয়েছে, কিন্তু তিনি এখনও অভিযোগ দায়ের করেননি।তবে দিঘলিয়া থানা ও কামারগাতি পুলিশ ফাঁড়ি পৃথকভাবে জিডি এন্ট্রি করেছেন।

তিনি আরো বলেন, লক্ষীকাঠি গ্রামে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। সেখানে একাধিক টিম কাজ করছে। বর্তমানে লক্ষীকাঠি গ্রামে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে।