ধর্ষণের শিকারে জন্ম নেয়া শিশুর বাবা সেই মাদ্রাসা শিক্ষক

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩৩ পিএম

নেত্রকোনার মদনে ধর্ষণের শিকার শিশুর পেটে জন্ম নেয়া নবজাতকের পিতা ওই মাদ্রাসার শিক্ষক আমানউল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগর।

নবজাতক শিশুর ডিএনএ পরীক্ষায় শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরের ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন  ৯৯.৯৯৯ শতাংশ হুবহু মিলেছে। এতে নবজাতকের জৈবিক পিতা হিসেবে ওই শিক্ষক প্রমাণিত হয়েছেন।

সোমবার (২৪ আগস্ট ) রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নেত্রকোনা নারী শিশু আদালতের পিপি এডভোকেট মো. নুরুল কবীর রুবেল।

তিনি বলেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ডিএনএ পরীক্ষার চূড়ান্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণের প্রতিবেদন থানা পুলিশের হাতে এসেছে।

মামলার এজহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের একটি মহিলা কওমি মাদরাসার পরিচালক ও শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর ওই শিশুটিকে ধর্ষণ করে। এরপর প্রাণনাশের হুমকি দিলে শিশুটি প্রথমে ঘটনা গোপন রাখলেও পরবর্তীতে শারীরিক পরিবর্তন হলে বিষয়টি প্রকাশ পায়। পরে তার পরিবার গত ১৮ এপ্রিল স্থানীয় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষার পর শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা বলে জানায় চিকিৎসক।

এই ঘটনা জানাজানি হলে শিশুর পরিবারকে গ্রামছাড়া করার হুমকি সহ শিশুর নানা মামার ওপর দায় চাপিয়ে স্থানীয় ভাবে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা করে।

কিন্তু পরিবারটি ম্যানেজ না হওয়ায় মামলা হওয়ার ভয়ে মাদ্রাসায় তালা ঝুলিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে পালিয়ে যান ওই শিক্ষক। এদিকে এ ঘটনায় ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে মদন থানায় নারী শিশু আইনে মামলা দায়ের করেন।

মামলার পরও অজ্ঞাত স্থানে থেকে আত্নীয় স্বজন দিয়ে ওই শিশুর পরিবারকে অনবরত হুমকি ধমকি দিতে থাকে।

এক পর্যায়ে ঘটনাটি দেশজুড়ে জানাজানির পর তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিলে ৫ মে অজ্ঞাত স্থানে থেকে ফেইসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবী করেন ধর্ষক শিক্ষক। তিনি উল্টো মেয়ের পরিবার ও চিকিৎসকসহ সকলকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এদিকে নেত্রকোনার পুলিশ তাকে ধরতে না পারায় র‍্যাব-১৪ ছায়াতদন্ত করে ফেইসবুকে লাইভের পরদিনই ৬ মে ভোরে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক সাগরকে গ্রেপ্তার করে নেত্রকোনা মদন থানায় হস্তান্তর করে। পরে 

গ্রেপ্তারকৃতকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। এদিকে হুমকির মুখে থাকা ধর্ষণের শিকার শিশুকে সুরক্ষা দিতে সমাজ সেবার আওতায় সিলেট একটি সেইফহোমে রাখা হয়।

এরপর গত ১৭ মে আদালতের অনুমতিক্রমে ঢাকার সিআইডি কার্যালয়ে আসামি সাগরের ডিএনএ নমুনা জমা দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে গত ২রা জুলাই ভুক্তভোগী শিশুটি সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়।

বর্তমানে ভুক্তভোগী শিশু ও তার নবজাতক সিলেটের সেফহোমে রয়েছে। এরপর আদালতের নির্দেশে ২৮ জুলাই সিআইডির একটি দল সেফহোমে গিয়ে নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠায়। সেখানে দুটো ডিএনএ পরীক্ষায় হুবহু মিলে যাওয়ার প্রতিবেদন ২৪ আগস্ট নেত্রকোনা পুলিশের হাতে পৌঁছায়।

এদিকে অভিযুক্ত মাদ্রাসার শিক্ষক গ্রেপ্তা্রের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তার পক্ষে সাফাই গেয়ে নেত্রকোনা জইসলামি আন্দোলনের সভাপতি ও ইসলামী বক্তা মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম প্রতিবেদন পাওয়ার পর জানান, ডিএনএ পরীক্ষা যদি নবজাতকের সাথে মাদ্রাসা শিক্ষক সাগরের মিল পাওয়া যায় তাহলে আমরা তার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।

তবে ইসলামের বিধান অনুযায়ী কোন বিবাহিত পুরুষ যদি কোন ব্যভিচারে লিপ্ত হয় তাহলে তাকে জনসম্মুখে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করতে হয়। আমরা চাই রাষ্ট্র এই বিধানটি বাস্তবায়ন করুক।

রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি আইনজীবী মো. নুরুল কবীর রুবেল আরও জানান, এই বৈজ্ঞানিক প্রমাণের পর আসামির আর কোনো দ্বিমত বা প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। প্রযুক্তিগত ও আইনগতভাবে মামলাটি এখন বিচার প্রক্রিয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত এবং অল্প সময়ের মধ্যেই পুলিশ আদালতে চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিল করবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত