উপকূলের পানিতে লবণাক্ততা, হৃদরোগের ঝুঁকিতে প্রতি পাঁচজনে একজন

খুলনার সুন্দরবন সংলগ্ন কয়রা উপজেলায় খাবার পানির ৫৫ দশমিক ৩ শতাংশ উৎসে লবণাক্ততা পাওয়া গেছে। এ কারণে উপকূলীয় মানুষের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপসহ হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ছে বলে উঠে এসেছে আইসিডিডিআর,বি ও ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের যৌথ গবেষণায়।

সোমবার (আগস্ট) রাজধানীর মহাখালীতে আইসিডিডিআর,বির সাসাকাওয়া মিলনায়তনে আয়োজিত সেমিনারে গবেষণার প্রাথমিক ফলাফল উপস্থাপন করা হয়।

গবেষণায় কয়রা ও সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার ২৭ হাজার ৬৯৭টি পানির উৎস জরিপ করা হয়। এর মধ্যে ৬ হাজার ৭০৩টি উৎসের পানি পানীয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। কয়রায় পানীয় পানির ৫৫ দশমিক ৩ শতাংশ এবং আশাশুনিতে ২৩ দশমিক ৩ শতাংশ উৎসে লবণাক্ততা পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া দুই উপজেলার ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সী ১৫ হাজার ৪৭১ জনের হৃদরোগের ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়। গবেষকদের হিসাবে, তাঁদের মধ্যে ২১ দশমিক ৬ শতাংশের আগামী ১০ বছরে মাঝারি থেকে উচ্চমাত্রার হৃদরোগের ঝুঁকি রয়েছে। কয়রায় এ হার ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ এবং আশাশুনিতে ২৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

গবেষণায় বলা হয়, উপকূলীয় এলাকায় দীর্ঘদিনের গবেষণায় খাবার পানিতে অতিরিক্ত সোডিয়ামের সঙ্গে রক্তচাপ বৃদ্ধির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে লবণাক্ত পানিকে সরাসরি হৃদরোগের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। এ বিষয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

গবেষকরা নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে কমিউনিটি রেইনওয়াটার হার্ভেস্টিং, পন্ড স্যান্ড ফিল্টার ও টিউবওয়েলের পাশাপাশি পানির উৎসের ডিজিটাল রেজিস্ট্রি ও নজরদারি ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন।

সেমিনারে আইসিডিডিআর,বির নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্পর্ক বিবেচনায় নিরাপদ খাবার পানি, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণকে সমন্বিত করে অভিযোজন কৌশল তৈরির কাজ চলছে।