হাইতিতে আবারও ভয়াবহ সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের দক্ষিণে কেন্সকফের একটি কৃষিপ্রধান এলাকায় গ্যাংয়ের হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। রবিবার (২৩ আগস্ট) রাতে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। খবর আলজাজিরার।
কেন্সকফের মেয়র জ্যাঁ মাসিয়োঁ জানান, সশস্ত্র ব্যক্তিরা এলাকায় ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। তারা কয়েকটি বাড়িতে আগুন দেয় এবং বাসিন্দাদের হত্যা করে। হামলাকারীরা একটি গির্জা ও বেশ কয়েকটি বাড়িকেও লক্ষ্যবস্তু বানায়। এসব বাড়ির মধ্যে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ জ্যাঁ উইলিয়াম পাপের বাড়িও ছিল।
মেয়র মাসিয়োঁ এ হামলার জন্য ‘ভিভ আনসাম’ নামের একটি গ্যাং জোটকে দায়ী করেছেন। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের সরকার সংগঠনটিকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল।
পোর্ট-অ-প্রিন্সের প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা গ্যাংগুলোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেন্সকফ এলাকাটিও ভিভ আনসাম বারবার হামলার লক্ষ্যবস্তু করেছে। এলাকাটি পেতিওঁ-ভিলের দিকে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর ওপর অবস্থান করছে। পেতিওঁ-ভিলে বেশ কয়েকটি দূতাবাস, বিলাসবহুল হোটেল এবং হাইতির সরকারের অস্থায়ী কার্যালয় রয়েছে।
গ্যাংগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে জাতিসংঘের সমর্থনে একটি বিশেষ বাহিনী কাজ করছে। তবে ৫ হাজার ৫০০ সদস্য নিয়ে পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছাতে পারেনি বাহিনীটি।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গ্যাং সহিংসতার কারণে হাইতিতে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও সহিংসতা থামেনি। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত গ্যাং সহিংসতায় ৩ হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং ১ হাজার ১৮৯ জন আহত হয়েছেন বলে জাতিসংঘ জানিয়েছে। পোর্ট-অ-প্রিন্সে গ্যাংগুলোর ব্যাপক সহিংসতা গত বছর আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও উদ্বেগ তৈরি করেছিল।
সোমবার (২৪ আগস্ট) হাইতির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এই হামলাকে ‘জঘন্য হামলা’ হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির জনগণকে আশ্বস্ত করে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে।
সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘কেন্সকফকে পরিত্যক্ত অবস্থায় রাখা হবে না।’ এতে আরও বলা হয়, ‘কোনো দুর্বলতা বা বিলম্ব ছাড়াই সরকারের কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে।’
এদিকে এক দশকেরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে হাইতি। জানুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য নাগরিকদের নিবন্ধনও চলছে। তবে দেশটির বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নির্বাচন আয়োজন কতটা সম্ভব, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।