বাগেরহাটের ফকিরহাটে অভিযান চালিয়ে আইএমইআই পরিবর্তন করা ৫৯টি মোবাইলফোনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৪ আগস্ট) রাতে ফকিরহাট উপজেলা সদরের ডাকবাংলো মোড়ের পুষ্প টেলিকম নামের একটি দোকানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, চুরি বা ছিনতাই করা মোবাইলফোনের আইএমইআই পরিবর্তন করে বিক্রি করত এই চক্র। উদ্ধার হওয়া ফোনগুলো সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চুরি বা ছিনতাই করা। তবে আইএমইআই পরিবর্তন করা থাকায় ফোনগুলোর প্রকৃত মালিক শনাক্ত করে ফেরত দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে বাগেরহাট পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার। তিনি বলেন, বাগেরহাটে সম্প্রতি মোবাইলফোন চুরির ঘটনা বেড়েছে। চক্রটিকে শনাক্ত করতে পুলিশ গোপনে কাজ করছিল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ফকিরহাটের ডাকবাংলো এলাকার একটি দোকানে অভিযান চালিয়ে ৫৯টি মোবাইলফোনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার বলেন, উদ্ধার হওয়া ফোনগুলোর আইএমইআই নম্বর নেই। অর্থাৎ সেগুলোর আইএমইআই পরিবর্তন করা হয়েছে। চুরি করা ফোনের আইএমইআই পরিবর্তন করে দেওয়ার কাজে বাগেরহাটে বেশ কয়েকটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করে এসব ফোন সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করে প্রতারণা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আইএমইআই নম্বর না থাকলে ফোনটি অবৈধ। উদ্ধার হওয়া ফোনগুলোর আইএমইআই পরিবর্তন করা থাকায় সেগুলোর মালিকানা শনাক্ত করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। একটি চক্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের ধরতে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ফকিরহাট উপজেলার পাগলা শ্যামনগর গ্রামের শেখ সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে রেজাউর রহমান পলাশ (৩৪), বাগেরহাট সদর উপজেলার ভট্ট বালিয়াঘাটা গ্রামের মো. জাহাঙ্গীর খানের ছেলে মো. হুসাইন খান (৩৪), একই উপজেলার আতাইকাঠি গ্রামের আক্কেল আলী শেখের ছেলে মো. অহিদুল ইসলাম (২৬) এবং খুলনার রূপসা উপজেলার ঘাটভোগ গ্রামের চৈতন্য সাহার ছেলে চন্দন সাহা (৩০)।
উদ্ধার হওয়া মোবাইলফোনগুলো বিভিন্ন ব্র্যান্ডের। মঙ্গলবার দুপুরে গ্রেপ্তার চারজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।