নাটোরের গুরুদাসপুরে অনুমোদনহীন গুদামে সার মজুদ রাখার দায়ে মেসার্স এল আর ট্রেডার্সের মালিক ও বিএডিসির সার ডিলার মো. লুৎফর রহমান কারীকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ৩টার দিকে উপজেলার নাজিরপুর হাজির মোড়সংলগ্ন, সিংড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা কৃষি অফিস ও উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুল ইসলাম।
অভিযানে অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মো. মেহেদী জাহান ও কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. তানভীর রানা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় গুরুদাসপুর থানা-পুলিশের একটি দল এবং ভূমি অফিসের কর্মচারীরা অভিযানে সহযোগিতা করেন।
অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি সারের বাজারে শৃঙ্খলা ফেরানো, অবৈধ মজুত ও পাচার ঠেকানো এবং কৃষকদের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার পৌঁছানো নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে সার ডিলারদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ডিলারদের নীতিমালা মেনে ব্যবসা পরিচালনা, মজুদের হিসাব সংরক্ষণ এবং অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি না করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।
এর পর থেকেই উপজেলার বিভিন্ন ডিলার পয়েন্ট ও গুদামে তদারকি জোরদার করা হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার নাজিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মেসার্স এল আর ট্রেডার্সের একটি অনুমোদনহীন গুদামে সার মজুতের বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রতিষ্ঠানটির মালিককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুল ইসলাম বলেন, সারের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অবৈধ মজুদ ও পাচার বন্ধে প্রশাসনের অভিযান চলমান থাকবে। নিয়মবহির্ভূতভাবে সার মজুদ কিংবা কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, কৃষকদের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার পৌঁছানো নিশ্চিত করাই প্রশাসনের লক্ষ্য। এ জন্য বাজার তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
কৃষকের মৌসুমী চাহিদার সঙ্গে সারের সরবরাহ সরাসরি জড়িত। তাই বাজারে সামান্য অনিয়মও কৃষকের উৎপাদন ব্যয় ও ফসলের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। প্রশাসনের ভাষ্য, এই কারণেই এখন মজুত, মূল্য ও সরবরাহ—তিন দিকেই নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।