ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-২১ দলে খেলা হামজা চৌধুরী  লেস্টার সিটির সাম্প্রতিক ফর্মের ঘাটতির কারণে হামজা চৌধুরীর জন্য নতুন কোনো ক্লাবে গিয়ে নতুনভাবে শুরু করাটাই সেরা সিদ্ধান্ত হতে পারে। ক্যারিয়ারের এই সময়ে নিয়মিত একাদশে খেলার জন্য এমন নতুন একটি পরিবেশ তাঁর হারিয়ে যাওয়া ফর্ম ফেরাতে সাহায্য করবে। ডার্বি কাউন্টির জন্য তাঁর অভিজ্ঞতা ও একাধিক পজিশনে খেলার ক্ষমতা বড় প্রাপ্তি হলেও সামার উইন্ডো শেষ হওয়ার আগে তাদের মূল নজর থাকা উচিত আক্রমণভাগে। প্যাটরিক অ্যাজিয়েম্যাং দীর্ঘদিন ধরে ইনজুরিতে রয়েছেন এবং ধার করা বেন ব্রেরেটন দিয়াজ ও জেইডন ব্যানেলের বদলি ফুটবলার এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি ক্লাবটি। তাই উইন্ডোর শেষ সপ্তাহে ডার্বিকে আক্রমণভাগ শক্তিশালী করতে আরও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

হামজা চৌধুরীকে কিনতে চায় চ্যাম্পিয়নশিপ ক্লাব ডার্বি কাউন্টি

দলবদলের উইন্ডো শেষ (৩১ আগস্ট) হওয়ার ঠিক শেষ মুহূর্তে লেস্টার সিটির বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরীকে দলে টানতে আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নিয়েছেইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব ডার্বি কাউন্টি। তুর্কি আল-শেখ-এর বিনিয়োগ চুক্তি বাতিল হলেও ট্রান্সফার পরিকল্পনায় কোনো প্রভাব পড়েনি বলে নিশ্চিত করেছে ক্লাবটি। মিডফিল্ড শক্তিশালী করাই এখন ডার্বির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য, আর সেই তালিকাতেই শীর্ষে উঠে এসেছেন ২৮ বছর বয়সী এই ফুটবলার।

দ্য টেলিগ্রাফের সাংবাদিদক মাইক ম্যাকগ্রা তার এক্স হ্যান্ডলে আজ (২৫ আগস্ট) প্রথম জানান,, ইস্ট মিডল্যান্ডসের প্রতিপক্ষ লেস্টার সিটি থেকে এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারকে দলে নিতে দর কষাকষি শুরু করেছে ডার্বি। তবে এই দলবদল কি স্থায়ী চুক্তি নাকি ধারে (লোন) হবে—তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ক্যারিয়ারের সিংহভাগ সময় ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডে খেললেও সাম্প্রতিক সময়ে রাইট-ব্যাক হিসেবেও খেলেছেন হামজা চৌধুরীতে। ডার্বিতে এলে ম্যাক্স জনস্টনের ব্যাকআপ ও মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন হামজা। ডার্বি কাউন্টি অধিনায়ক লুইস ট্র্যাভিসের সঙ্গে হামজার খেলার স্টাইলে দারুণ মিল রয়েছে। দুজনেই ডিফেন্সের সামনে রক্ষণাত্মক প্রাচীর হিসেবে কাজ করতে ও প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামলাতে পারদর্শী। এছাড়া লেস্টারের হয়ে অধিনায়কত্ব করার অভিজ্ঞতা থাকায় দলের ড্রেসিংরুমেও তিনি নেতৃত্ব দিতে পারবেন। আগ্রাসী ট্যাকলিংয়ের কারণে হামজার প্রায়ই ফাউল করা বা কার্ড দেখার প্রবণতা রয়েছে। পাশাপাশি লং পাসিং বা সুযোগ তৈরির দিক থেকে তাঁর সীমাবদ্ধতা থাকলেও ডার্বির রক্ষণভাগ সুরক্ষায় তিনি অত্যন্ত কার্যকর হবেন বলে ধারনা করা হচ্ছে।

ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-২১ দলে খেলা হামজা চৌধুরীর জন্য লেস্টার সিটিতে সাম্প্রতিক ফর্মের ঘাটতির কারণে নতুন কোনো ক্লাবে গিয়ে নতুনভাবে শুরু করাটাই সেরা সিদ্ধান্ত হতে পারে। ক্যারিয়ারের এই সময়ে নিয়মিত একাদশে খেলার জন্য এমন নতুন একটি পরিবেশ তাঁর হারিয়ে যাওয়া ফর্ম ফেরাতে সাহায্য করবে।

চুক্তির শেষ বছরে এসে ডার্বি কাউন্টি তাঁকে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ায় লেস্টার ট্রান্সফার ফি পাওয়ার পাশাপাশি বিশাল বেতন খরচ থেকেও বাঁচবে বলে কথাবার্ত হচ্ছে। হামজাকে বিক্রি করাকে দুই পক্ষের জন্যই "উইন-উইন" পরিস্থিতি হিসেবে দেখছে লেস্টার সিটির সমর্থক ও বিশ্লেষকরা। আগামী গ্রীষ্মে ফ্রিতে ক্লাব ছাড়ার আগেই তাঁর দলবদল নিশ্চিত করা গেলে লেস্টার যেমন অর্থ পাবে, তেমনি ডার্বি কাউন্টিও তাদের মিডফিল্ডের ঘাটতি পূরণ করতে পারবে।

লেস্টার সিটি অ্যাকাডেমি থেকে উঠে আসা হামজা চৌধুরী ২০১৫ সাল থেকে মূল দলে খেলার সুযোগ পান। এখন পর্যন্ত ১২২টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি লেস্টারের হয়ে। তবে মাঝে মাঝেই তাকে ধারে অন্য ক্লাবে খেলতে হয়েছে। ২০২২-২৩ মৌসুমের পুরোটা ওয়াটফোর্ডে খেলেন তিনি। ২০২৫-এর জানুয়ারিতে তিনি শেফিল্ড ইউনাইটেডে ধারে ১৬ ম্যাচ খেলেন। কিন্তু শেফিল্ড প্রিমিয়ার লিগে উঠতে ব্যর্থ হওয়ায় ধার শেষে লেস্টার সিটিতে ফেরেন তিনি। এদিকে লেস্টার সিটিও নেমে যায় চ্যাম্পিয়নশিপে। গত মৌসুমটায় হামজা চ্যাম্পিয়নশিপের ৩০টি ম্যাচ খেলেন লেস্টারের হয়ে। সার্বিকভাবো খুবই বাজে পারফরম্যান্সের কারণে চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে গেলো বছর ইংল্যান্ডের তিন নম্বর সারির লিগ ওয়ানে নেমে যায় লেস্টার। সদ্য শুরু হওয়া মৌসুমে হামজা লিগ ওয়ানে দুই ম্যাচে ৯৫ মিনিট এবং ইএফ কাপের একটি ম্যাচে ৩ মিনিট খেলার সুযোগ পেয়েছেন।