মালয়েশিয়ার সরকার কর্তৃক বাংলাদেশের যে ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশে করেছে তাতে উদ্বেগ জানিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর বরাবরে চিঠি দিয়েছেন বায়রার সদস্য। পাশাপাশি মালয়েশিয়া শ্রমবাজার সকল বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য উন্মুক্ত করণের আবেদন জানিয়েছেন তারা।
চিঠিতে বায়রার সদস্যরা বলেছেন, সম্প্রতি মালয়েশিয়ার অনলাইন পদ্ধতি এফডব্লিউসিএমএস এ বাংলাদেশের ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশিত হওয়ায় বায়রার সাধারণ সদস্যদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের আশঙ্কা, এর মাধ্যমে অতীতের মতো পুনরায় সীমিত সংখ্যক এজেন্সি নিয়ে আবারও একচেটিয়া সিন্ডিকেট তৈরী হবে।
অতীতে ১০টি এবং পরবর্তীতে ২৫টি ও ১০১ টি এজেন্সিকে কেন্দ্র করে পরিচালিত নিয়োগব্যবস্থা নিয়ে উচ্চ অভিবাসন ব্যয়, অনিয়ম ও বৈষম্যের ব্যাপক অভিযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। আমরা সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি চাই না। আমরা মালয়েশিয়া শ্রমবাজার দ্রুত চালুর পক্ষে, কিন্তু পুনরায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নয়। এমতাবস্থায় আপনার সদয় হস্তক্ষেপে নিম্নোক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানাচ্ছি ১. এফডব্লিউসিএমএস এ প্রকাশিত ২৫টি এজেন্সির তালিকার আইনগত ও সরকারি অবস্থান স্পষ্ট করা এবং কোন নীতিমালা ও প্রক্রিয়ায় তালিকাটি তৈরি হয়েছে তা প্রকাশ করা; ২. ২৫, ৫০ বা ১০০টি এজেন্সির মধ্যে শ্রমবাজার সীমাবদ্ধ না রেখে সকল বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সিকে সমান সুযোগ প্রদান করা; ৩. অতীতের বিতর্কিত ১০ ক্রাইটেরিয়ার তালিকা বাদ দিয়ে প্রয়োজনে এজেন্সি নির্বাচনে কোনো ক্রাইটেরিয়া থাকলে তা স্বচ্ছ ও প্রকাশ্যভাবে ঘোষণা করে সকল বৈধ এজেন্সিকে আবেদন ও প্রতিযোগিতার সমান সুযোগ দেওয়া। ৪. মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে সীমিত এজেন্সি বাধ্যতামূলক হলে সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলের মাধ্যমে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করে সকল বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর সুযোগ দেওয়া; ৫. কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, মধ্যস্বত্বভোগী ও অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধে শক্তিশালী সরকারি মনিটরিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, দেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাত কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একচেটিয়া ব্যবসার ক্ষেত্র হতে পারে না। তাই দেশের স্বার্থ, কর্মীদের স্বার্থ এবং সরকারের সুনাম রক্ষায় পুনরায় কোনো সিন্ডিকেটকে সুযোগ না দিয়ে কম খরচে, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়া শ্রমবাজার দ্রুত সকল বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য উন্মুক্ত করার জন্য আপনার জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এর আগে সোমবার (২৪ আগস্ট) বায়রার সদস্যরা সচিবালয়ে গিয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে না পেয়ে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের উদ্বেগের কথা জানান।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের জন্য ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করে দেশটির বিদেশি কর্মী নিয়োগ প্ল্যাটফর্ম এফডব্লিউসিএমএস। প্রকাশিত এ তালিকায় বাংলাদেশের ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির নাম রয়েছে। তবে কী প্রক্রিয়ায় এবং কবে থেকে এসব এজেন্সির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানো শুরু হবে, সে বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
গত ৩০শে জুলাই মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে 'মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলে গেছে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি তখন বলেছিলেন, অগাস্ট মাসের শেষ সপ্তাহ থেকেই মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের যাওয়া শুরু হবে।
এর আগে মালয়েশিয়ার বাজারে নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটের কারণে শ্রমিকদের সরকার নির্ধারিত খরচের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি অর্থ গুনতে হয়েছিল। ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে ২০২৪ সালের মে মাসের শেষের দিকে মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া স্থগিত করেছিল। আগের সেই সিন্ডিকেটে জড়িত থাকার অভিযোগে সম্প্রতি বেশ কিছু রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল এবং আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।