রহস্যময় মৌমাছি 

ছোট অথচ বিচিত্র এক প্রাণী মৌমাছি। মৌমাছি তো আশ্চর্য প্রাণীও বটে। ওরা নিজের বসত নিজে গড়ে। ওদের বসতবাড়ি কিংবা নিবাস রসেভরা ঔষধি সমতুল্য। তাদের বসতবাড়ির নাম মৌচাক। ওখানে ওরা খাবার জমা রাখে, নিজেদের আশ্রিত রাখে, একটি মৌচাকে অসংখ্য মৌমাছি থাকে। ওরা খুব পরিশ্রমী এবং ওদের সঞ্চয় অর্থাৎ মধু অত্যন্ত উপকারী। ওরা ওদের জগতে খুব সামাজিকও। গবেষকদের ভাষ্য, মৌমাছির পৃথিবীতে ২০ হাজার প্রজাতির মৌমাছি আছে। ওদের সিংহভাগের চলাফেরা দলবদ্ধভাবে। ওদের সবাই যে মধু জমা করে তা কিন্তু নয়, কেউ কেউ করে। কেউ কেউ উড়ে উড়ে বেড়ায় বন-বাদাড়ে। দেখা যায়, কিছু প্রজাতির মৌমাছিকে মানুষ পোষ মানাতে পেরেছে। মৌচাষিরা যে মৌমাছিদের নিয়ে মৌ-খামার গড়ে তারা এই প্রজাতির। মৌ-খামারের মধু বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কোম্পানি বাজারজাত করছে। বিচিত্র হলো, এই মৌমাছিদের মধ্যে শ্রেণিবিভাগ আছে। তাদের একেক শ্রেণির কাজও একেক ধরনের। রানী মৌমাছি, রাজা মৌমাছি এবং কর্মী মৌমাছি। একটি মৌচাকে রানী থাকে একজন আর রাজার সংখ্যা থাকে অনেক, বাকিরা কর্মী। ওদের সমাজ খুব বিচিত্র। রানীই মৌচাকের সর্বেসর্বা। তাকে অন্যরা অমান্য করে না। রানীর আকারও একটু বড়। ডিম থেকে তাদের জন্মের সময় ২৫-৩০ দিনের মধ্যে। রানীর দায়িত্ব কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে রাখা আর ডিম পাড়া। প্রতিদিন শত শত ডিম পাড়ে ওরা। হুল দিয়ে ডিম পাড়ে রানী। এই হুলই তাদের আত্মরক্ষার অস্ত্র। রানী মৌমাছির আয়ু বেশি, গড়ে প্রায় ৬ বছর। রাজা মৌমাছির আয়ু কম, আর কর্মীদের আয়ু আরও কম।