বিবি গভর্নরকে চিটাগাং চেম্বার সভাপতির পত্র

‘ওয়ান টাইম এক্সিট’ সুবিধা  নিশ্চিত করতে  ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান 

দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক মুক্তির বৃহত্তর স্বার্থে, বিআরপিডি-১ সার্কুলার লেটার নং ২৩-এর মূল মর্মার্থের আলোকে প্রয়োজনে ছাড় দিয়ে হলেও ব্যবসায়ীদের ‘ওয়ান টাইম এক্সিট’ প্রস্তাব গ্রহণ নিশ্চিত করতে দেশের ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যংক গভর্নরের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন চিটাগাং চেম্বার সভাপতি মো. আমিরুল হক।  মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের কাছে পাঠানো এক পত্রে এ আহ্বান জানান তিনি।

পত্রে চেম্বার সভাপতি উল্লেখ করেন-রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ডলারের বিপরীতে টাকার মারাত্মক অবমূল্যায়ন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং কোভিড-১৯ মহামারীর ফলে সৃষ্ট দীর্ঘস্থায়ী আর্থ-সামাজিক সংকটসহ নানা কারণে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপর্যস্ত হয়েছে। এছাড়া, অতীতের অদূরদর্শী ম্যাক্রো-ইকোনমিক নীতিমালার কারণে ব্যাংক ঋণে গড়ে ওঠা দেশের শত শত শিল্প প্রতিষ্ঠান নতুন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ না পাওয়ায় গত কয়েক বছর ধরে উৎপাদনে যেতে পারেনি। 

ফলে উৎপাদনে যাওয়ার আগেই তারা ব্যাংক খেলাপিতে পরিণত হয়ে রুগ্ন শিল্পে রূপ নিয়েছে। এর ফলশ্রুতিতে দেশে শিল্পোৎপাদন এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রচেষ্টা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের চরম সংকট শুধুমাত্র নতুন শিল্পের উৎপাদনে যাওয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে তা নয় বরং অনেক চলমান শিল্পের উৎপাদনকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। কিন্তু, কর্মীদের বেতন, মেইন্টেন্যান্স, ব্যাংক ঋণের সুদ ইত্যাদি নিয়মিত পরিশোধের বোঝা ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাকে বহন করতে হয়েছে। 

দীর্ঘ সময় ধরে আর্থিক ক্ষতির দায় বহন করতে গিয়ে একদিকে যেমন ব্যবসায়ীরা ঋণ খেলাপী হচ্ছেন, অপরদিকে ঋণ প্রদানকারী ব্যাংকসমূহও তারল্য সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। এতে করে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্ক তিক্ততায় পরিণত হয়েছে।

পত্রে চেম্বার সভাপতি বলেন-বিগত সময়ের অনুসৃত ভ্রান্ত নীতিমালার কারণে ব্যাংকিং খাতে বিপুল পরিমাণ খেলাপী ঋণের উদ্ভব, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহে তারল্য সংকট সৃষ্টি, গ্যাস-বিদুতের সংযোগের অভাবে উৎপাদন শুরু করতে না পেরে শত শত শিল্প প্রতিষ্ঠানের ঋণগ্রস্ত হওয়া, গ্যাস-বিদ্যুতের তীব্র সংকটে চলমান শিল্পের উৎপাদন মারাত্মক হ্রাসহেতু বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে অনেক প্রতিষ্ঠানের ঋণ খেলাপী হয়ে যাওয়া, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আস্থা হ্রাস, সভরেন ক্রেডিট রেটিং কমে যাওয়ার শঙ্কা, আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজার থেকে তহবিল সংগ্রহ কঠিন ও আন্তর্জাতিক ব্যবসার ক্ষেত্রে ঝুঁকি সৃষ্টির আশঙ্কা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার বাস্তব কারণ বিবেচনায় সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণগ্রস্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ এক্সিট সুবিধা দিতে সম্প্রতি বিআরপিডি-১ সার্কুলার লেটার নং-২৩ জারী করে। 

তবে দেশের ব্যাংকিং খাতের একটি বড় অংশ হয়তো সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের এই অন্তর্নিহিত মূল বার্তাটি পুরোপুরি অনুধাবন করতে ব্যর্থ হচ্ছে। যার ফলে তারা ব্যবসায়ীদের ‘ওয়ান টাইম এক্সিট’ প্রস্তাব গ্রহণে দীর্ঘসূত্রিতা করছে কিংবা অপারগতা প্রকাশ করছে। সার্কুলারটির অন্যতম উদ্দেশ্য হলো আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কিন্তু ব্যাংক ঋণ পরিশোধে আগ্রহী ব্যবসায়ীরা যাতে তাদের দায় পরিশোধ করে উৎপাদন খাতে পুনরায় অর্থায়নের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে। 

পাশাপাশি বিপর্যস্ত ব্যাংকিং সেক্টর যেন তাদের তারল্য সংকট কাটিয়ে বেসরকারি খাতে পুনরায় ঋণ প্রবাহ ত্বরান্বিত করে শিল্পোৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে ২০৩৪ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করতে অবদান রাখতে পারে। কিন্তু কেউ যদি সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক গৃহীত এই মহান উদ্যোগের সাথে একমত না হয় এবং দেশের স্থিতিশীল আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের বৃহত্তর স্বার্থে প্রয়োজনে ছাড় দিয়ে হলেও ব্যবসায়ীদের ‘ওয়ান টাইম এক্সিট’ প্রস্তাবে রাজি না হয়, তবে তা দেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে মারাত্মক বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।