দুই শিশুর মৃত্যুর তদন্তে গিয়ে হামলার শিকার পুলিশ

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০১:১৯ এএম

নাটোরের গুরুদাসপুরে নন্দকুঁজা নদীতে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশের দুই সদস্য। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের চন্দ্রপুর ওয়াবদা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় গুরুদাসপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল বাশার ও কনস্টেবল রাকিবুল ইসলাম আহত হয়েছেন।

দুই শিশুর মৃত্যুর তদন্তে যাওয়া পুলিশকে কেন ঘেরাও করা হলো, কীভাবে মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠল এবং কারা হামলায় অংশ নিয়েছিল—ঘটনাটিকে ঘিরে এখন এসব প্রশ্ন সামনে আসছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে নন্দকুঁজা নদীতে গোসল করতে গিয়ে ফারহান হোসেন (৮) ও লাম হোসেন (৮) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়। ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ ও আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে যায় পুলিশের একটি দল।

সেখানে পৌঁছানোর পর নিহত শিশুদের মরদেহ ও মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও স্থানীয়দের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পুলিশ সূত্রের ভাষ্য, স্থানীয়দের একটি অংশের মধ্যে ধারণা তৈরি হয় যে শিশু দুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নেওয়া হতে পারে। এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এক পর্যায়ে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি পুলিশ সদস্যদের ধাওয়া করলে তারা পাশের একটি টিনশেড দোকানঘরে আশ্রয় নেন। সেখানে তাদের কিছু সময় অবরুদ্ধ করে রাখা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে পুলিশ সদস্যরা দোকানঘর থেকে বেরিয়ে নিকটবর্তী একটি মাদ্রাসার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পথে তাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। পরে তারা মাদ্রাসায় আশ্রয় নিলে সেটিও ঘিরে রাখে স্থানীয়দের একটি অংশ।

খবর পেয়ে গুরুদাসপুর থানা থেকে ওসি (তদন্ত) এস এম রিয়াজুল হাসানের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। অতিরিক্ত পুলিশ উপস্থিত হওয়ার পর পরিস্থিতি শান্ত হতে শুরু করে এবং হামলাকারীরা সরে যায়।

পরে মাদ্রাসা থেকে আহত দুই পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে তারা থানায় ফিরে যান।

গুরুদাসপুর থানার ওসি (তদন্ত) এস এম রিয়াজুল হাসান বলেন, স্থানীয়রা আইনগত বিষয়টি সঠিকভাবে বুঝতে না পেরে মনে করেছিলেন শিশুদের মরদেহ ময়নাতদন্ত করা হবে। এই ভুল বোঝাবুঝি থেকেই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি দুঃখজনক।

তবে ঘটনাস্থলে ভুল বোঝাবুঝি কীভাবে এত দ্রুত হামলায় রূপ নিল, কারা পুলিশ সদস্যদের ধাওয়া ও মারধরে অংশ নিয়েছিল এবং পরিস্থিতি উসকে দেওয়ার পেছনে কারও ভূমিকা ছিল কি না—এসব বিষয় তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার হয়নি।

পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পৃথক মামলা কিংবা অন্য কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও রাত পর্যন্ত নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর শোক কাটার আগেই একই ঘটনাকে ঘিরে পুলিশের ওপর হামলা নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে এলাকায়। এখন তদন্তে শুধু শিশুদের মৃত্যুর ঘটনাই নয়, পুলিশকে ঘিরে তৈরি হওয়া সেই উত্তপ্ত পরিস্থিতির নেপথ্যের ঘটনাপ্রবাহও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত