গ্রিন এজিং বয়সকে থামানো নয় এগিয়ে চলা

বয়স বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বয়সের ছাপ মানেই সৌন্দর্য হারিয়ে যাওয়া নয়। বরং এখন সৌন্দর্যচর্চায় জনপ্রিয় হচ্ছে ‘গ্রিন এজিং’। যেখানে বয়সকে লুকিয়ে ফেলার বদলে ত্বক ও শরীরকে সুস্থ, সতেজ ও প্রাণবন্ত রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়। অতিরিক্ত প্রসাধনী, কঠোর ডায়েট কিংবা দ্রুত ফল পাওয়ার আশায় নানা ধরনের ট্রিটমেন্টের বদলে এই ধারণা গুরুত্ব দেয় দীর্ঘমেয়াদি ও সচেতন জীবনযাপনে।

গ্রিন এজিং আসলে বয়সের সঙ্গে লড়াই করার গল্প নয়; বরং বয়সকে নিজের সৌন্দর্যের অংশ হিসেবে গ্রহণ করার নতুন দৃষ্টিভঙ্গি। বলিরেখা মুছে ফেলার চেয়ে ত্বককে সুস্থ রাখা, বয়স লুকানোর চেয়ে আত্মবিশ্বাস ধরে রাখা এই দর্শনেই সৌন্দর্যের নতুন সংজ্ঞা খুঁজে নিচ্ছেন অনেকেই।

ত্বকের যত্নে প্রকৃতির ছোঁয়া

গ্রিন এজিংয়ের প্রথম ধাপ হতে পারে সহজ ও নিয়মিত স্কিনকেয়ার। ত্বকের ধরন অনুযায়ী মৃদু ক্লিনজার, ময়েশ্চারাইজার ও নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। রোদ ত্বকের অকাল বার্ধক্যের অন্যতম কারণ হওয়ায় বাইরে যাওয়ার আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা। দীর্ঘসময় বাইরে থাকলে সানস্ত্রিন লাগানোও গুরুত্বপূর্ণ। ত্বককে অতিরিক্ত স্ক্রাব, অধিক প্রসাধন বা একসঙ্গে অনেক ধরনের পরিচর্যা ত্বককে ক্লান্ত না করে প্রয়োজন বুঝে যতœ নেওয়াই এই ধারার মূল কথা।

প্লেটে যত রঙ, ত্বকে তত প্রাণ

গ্রিন এজিং শুধু আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ত্বকের যতœ নেওয়া নয়; এর বড় অংশ খাবারের সঙ্গে জড়িত। রঙিন শাকসবজি, ফল, বাদাম, বীজ, ডাল, মাছ ও পর্যাপ্ত পানি খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সমর্থন করে। অন্যদিকে অতিরিক্ত চিনি, অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার ও ধূমপানের মতো অভ্যাস সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

ঘুম শরীরচর্চা আর মন ভালো রাখাও সৌন্দর্যচর্চা

পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করাও গ্রিন এজিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কারণ সুন্দর ত্বক শুধু ক্রিমের ফল নয়; শরীর ও মনের সুস্থতারও প্রতিফলন। প্রতিদিন কিছুটা সময় নিজের জন্য রাখা, প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া। এসব ছোট অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে।

তারুণ্যদীপ্ত থাকতে ১০ খাবার

ডালিম : ডালিমের রস পেশিকোষের বয়স বেড়ে যাওয়া রোধ করে। এটা ন্যাচারাল অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে পরিচিত। আর এতেই আপনার ত্বক থাকবে তারুণ্যময় ও গ্লোয়িং। ভিটামিন সি, ভিটামিন-এ সহ আরও অনেক পুষ্টিগুণ সম্পন্ন হওয়ায় অ্যান্টি এজিং ডায়েটে ডালিম অবশ্যই রাখতে হবে।

টমেটো : পাকা টমেটোতে লাইকোপিন নামের উপাদান থাকে। এর জন্যই টমেটোর রঙ লাল হয়। এটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে ভিটামিন-ই এর চেয়েও বেশি কার্যকর। ত্বক কুঁচকে যাওয়া বা বলিরেখা দূর করতে টমেটোতে থাকা লাইকোপিন  ভালো কাজ করে।

বাদাম : কাঠবাদাম, কাজুবাদাম বা চীনাবাদাম, অ্যান্টি এজিং ডায়েটে সবগুলোই উপকারী। স্বাস্থ্যকর ও প্রয়োজনীয় ফ্যাট, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম এবং আমিষের খুব ভালো উৎস হচ্ছে বাদাম। টিস্যুর ক্ষয়পূরণ এবং হরমোনাল ব্যালেন্স ঠিক রাখতে আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বাদাম রাখুন।

বেরি জাতীয় ফল : ভিটামিন সি, খনিজ পদার্থ এবং পটাসিয়াম সমৃদ্ধ হওয়ায় বেরি জাতীয় ফলগুলো ত্বকে বয়সের ছাপ পড়তে বাধা দেয়। স্ট্রবেরি, ব্লুবেরির মতো গাঢ় রঙের বেরি ফলগুলো আপনাকে তারুণ্যদীপ্ত থাকতে অনেকটাই সহায়তা করবে। তাই অ্যান্টি-এজিং ডায়েটে বেরি জাতীয় ফল রাখতে ভুলবেন না।

ডার্ক চকলেট : পরিমিত পরিমাণে ডার্ক চকলেট খাওয়া আপনার স্বাস্থ্য, ত্বক, চুল সবকিছুর জন্যই কিন্তু ভালো। গবেষণায় উঠে এসেছে, ডার্ক চকলেটে অ্যান্টি-এজিং প্রোপার্টিজ থাকায় এটা ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং বলিরেখা কমিয়ে ফেলে।

অ্যাভোকাডো : অ্যান্টি এজিং ডায়েটে অ্যাভোকাডো বেশ কার্যকরী। কেননা এতে ভিটামিন ই, পটাসিয়াম, স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আছে যেগুলো তারুণ্য ধরে রাখে। এটি কোষের পুনর্গঠনে সহায়তা করে, স্কিনকে কোমল রাখে, রিংকেল পড়া রোধ করে, এমন আরও অনেক কার্যকারিতা আছে।

কলা :  ভিটামিন বি৬, ফাইবার, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, ফাইবার এবং আরও অন্যান্য সব পুষ্টি উপাদানে ভরপুর হওয়ায় অ্যান্টি এজিং ডায়েটে এই ফল রাখতে পারেন।

লেবু, মাল্টা, কমলা : মেদ কমাতে লেবুর কার্যকারিতা অনেকেরই জানা। কিন্তু এজিং প্রতিরোধে লেবুর ভূমিকা অনেকেই জানেন না। ত্বকের হারিয়ে যাওয়া ঔজ্জ্বল্য ফিরিয়ে আনতে ও বলিরেখা কমাতে লেবু ও কমলা দারুণ কাজ করে। যারা স্কিনের মলিনতা ও বয়সের ছাপ নিয়ে চিন্তিত, তারা ডায়েটে অবশ্যই ভিটামিন সি অর্থাৎ লেবুর পানিকে অন্তর্ভুক্ত করুন।

আপেল : আপেলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এছাড়াও প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান ও খনিজ লবণ থাকায় এটা আপনার ত্বককে সতেজ রাখতে হেল্প করবে।

গ্রিন টি : তারুণ্য ধরে রাখতে দারুণ একটি কার্যকরী পানীয় হচ্ছে গ্রিন টি। সকালে ও বিকেলে দুই কাপ গ্রিন টি খাওয়ার অভ্যাস করুন। এটা শরীরের ক্ষতিকর টক্সিন বের করতে সাহায্য করবে।