আসন্ন এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট ইভেন্ট শুরুর মাত্র তিন সপ্তাহ বাকি থাকতেই বড় ধরনের বিপাকে পড়েছে এশিয়ার শীর্ষ ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলো। জাপানের নাগোয়ার নিকটবর্তী নিসিনের কোরোগি স্পোর্টস পার্কের অপ্রস্তুত ভেন্যু, নতুন তৈরি হাইব্রিড পিচ এবং অত্যন্ত ক্ষুদ্রাকার হোটেল রুম নিয়ে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের মতো ক্রিকেট বোর্ডগুলোর অন্দরমহলে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) এক বৈঠকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) পক্ষ থেকে প্রথম এই বিষয়গুলো জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়। এরপর ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানের মতো দেশগুলোর মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে এসিসির পক্ষ থেকে ভেন্যু এবং খেলোয়াড়দের আবাসন পরিদর্শনের জন্য প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে এক সূত্র জানিয়েছে, ‘এটি একটি খুবই প্রাথমিক পর্যায়ের মাঠ এবং পিচের মান নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। এটি খুব সম্প্রতি তৈরি করা হয়েছে এবং মে মাসের একটি টুর্নামেন্ট ছাড়া এটি সেভাবে পরীক্ষিতও নয়। তাছাড়া এখানে কোনো ভালো ড্রেসিংরুমও নেই।’
জানা গেছে, বিসিসিআই এই ফিডব্যাক পাওয়ার পর ভারতীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (আইওএ) এবং এশিয়ান গেমসের অর্গানাইজিং কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করে। তবে আইওএর এক কর্মকর্তা দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে স্পষ্ট করে জানান, ‘যেহেতু খেলার টেকনিক্যাল বিষয়ের সঙ্গে আমাদের কোনো ভূমিকা নেই, তাই আমরা বিসিসিআইকে অর্গানাইজিং কমিটির সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিয়েছি।’
যে কোরোগি স্পোর্টস পার্কে খেলা অনুষ্ঠিত হবে, সেটি মাত্র কয়েক মাস আগে একটি বেসবল গ্রাউন্ড থেকে ক্রিকেটের উপযোগী করা হয়েছে। পিচটি হাইব্রিড প্রযুক্তির হওয়ায় এবং পর্যাপ্ত পরীক্ষা না হওয়ায় বাউন্স ও স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।
মাঠের বাইরে খেলোয়াড়দের আবাসন নিয়েও দেখা দিয়েছে বড় সংকট। নাগোয়ায় ঐতিহ্যবাহী ভিলেজ না থাকায় খেলোয়াড়দের জন্য বরাদ্দ হওয়া হোটেলের রুমগুলোর আকার অত্যন্ত ছোট। এই বিষয়ে এক কর্মকর্তা দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘এটি একটি সত্যিকারের সমস্যা, কারণ রুমগুলো অত্যন্ত ছোট। যদি একজন খেলোয়াড় তার কিটব্যাগ খোলে, তবে দাঁড়িয়ে থাকার মতো পর্যাপ্ত জায়গাও থাকবে না। আমরা এই সমস্যার একটি সমাধান বের করার চেষ্টা করছি।’
আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে এই টুর্নামেন্টে। তবে সেখানে এই লজিস্টিক জটিলতাগুলো আসর সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।