উজিরপুর শাপলা বিলে পর্যটকদের ভিড়, বাড়ছে আয়ের সুযোগ

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলায় শাপলা বিল এখন প্রকৃতির এক অপূর্ব সৌন্দর্যের লীলাভূমি। শত শত একর জমিজুড়ে সাদা ও লাল রঙের শাপলার নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো পর্যটক ছুটে আসছেন।

বরিশাল শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরের এই বিলে বছরের প্রায় ৫ মাস পানি থাকলেও টানা ৩ মাস শাপলায় ভরে থাকে বিলটি। ভোরের সূর্য আলো ছড়ানোর আগেই দূর-দূরান্ত থেকে আসা নানা বয়সের মানুষের আনাগোনায় মুখরিত হয়ে ওঠে বিলের বিভিন্ন পয়েন্ট।

শাপলা বিল ঘুরতে নৌকার প্রয়োজন হয়। পর্যটকদের বহন করতে ৪টি পয়েন্টে প্রায় ৫০টির মতো ছোট-বড় নৌকা নিয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করেন মাঝিরা। পর্যটকরা দল বেঁধে নৌকায় ওঠেন এবং মিঠে রোদ আর দিগন্তজোড়া জলরাশির মধ্যে ফুটে থাকা কোটি কোটি শাপলা উপভোগ করেন।

শাপলার মৌসুম ঘিরে সাতলায় থাকে নানা আয়োজন। সাতলা, উত্তর সাতলা, পূর্ব সাতলা, মুড়িবাড়ি, পটিবাড়ি ও আলামদি গ্রামের বিলজুড়ে চোখ ফিরালেই দেখা যায় শাপলা আর শাপলা। মনে হয় রূপকথার কোনো রাজ্যে এসেছি।

দিনে দিনে পর্যটকদের সংখ্যা বাড়ায় নৌকার মাঝি-মাল্লাদের আয় বাড়ছে, দোকানিদের বেচাকেনা বাড়ছে, বাড়ছে বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের আয়ও। শাপলা বিলকে ঘিরে লাভবান হচ্ছেন উজিরপুরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

স্থানীয়রা জানান, সাতলার লাল শাপলার বিল দেশের অন্যতম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের স্থান। পর্যটকদের জন্য ভালো ঘাট, বসার জায়গা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা গেলে এখানে আরও বেশি মানুষ আসবে।

বরিশাল নগরী থেকে ঘুরতে আসা এক নারী পর্যটক বলেন, এখানে আসার পর তার ভালো লাগছে, তবে থাকার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। গৌরনদী থেকে আসা মাদ্রাসার ছাত্র নাইম (১৮) বলেন, মানুষের কাছে শুনে তিনি দুজন বন্ধুকে নিয়ে এসেছেন এবং শাপলার রাজ্যে ঘুরে তিনি মুগ্ধ হয়েছেন। পটুয়াখালী থেকে আসা স্কুলছাত্রী সম্পা (১৩) বলেন, বাবা-মায়ের সঙ্গে নৌকায় চড়ে শাপলার সৌন্দর্য উপভোগ করেছেন।

মুড়িবাড়ি এলাকার নৌকার মাঝি চয়ন (৩৫) বলেন, শাপলা মৌসুমে তার ভালো আয় হয়। তার মতো আরও ৫০-৬০ জন মাঝি রয়েছেন। তিনি বলেন, ভাড়ার পাশাপাশি পর্যটকরা বকশিসও দেন। প্রতিদিন গড়ে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা আয় করেন তিনি। ইজিবাইক চালকরা জানিয়েছেন, শাপলার মৌসুমে তাদের আয়-রোজগার ভালো হয়।

সাতলার স্থানীয়রা বলেন, প্রতি বছর শাপলা ফোটার মৌসুমে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা এখানে ছুটে আসেন। পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সাতলার শাপলা বিলকে ঘিরে উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা সাংবাদিকদের বলেন, শাপলার রাজ্য হিসেবে পরিচিত সাতলায় পর্যটকদের সুবিধার্থে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাতলার শাপলা বিলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দর্শনার্থীদের সংখ্যা।