জীবনের সবচেয়ে কঠিন রূপান্তর আর দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পথ পেরিয়ে আবারও ২২ গজে ফেরার সোনালী সুযোগ পাচ্ছেন অনয়া বাঙ্গার। ভারতের সাবেক ক্রিকেটার ও জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ সঞ্জয় বাঙ্গারের সন্তান অনয়া জন্মসূত্রে পুরুষ হলেও পরবর্তীতে জেন্ডার-অ্যাফার্মিং সার্জারির মাধ্যমে নারী অ্যাথলেট হিসেবে জীবন শুরু করেন।
ভারতিয় গণমাধ্যমে দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক বিশেষ প্রতিবেদনের সূত্রমতে, দীর্ঘদিন প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের বাইরে থাকার পর এবার ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতির সুবাদে দেশটির কমিউনিটি ও প্রিমিয়ার ক্রিকেটে খেলার আনুষ্ঠানিক অনুমতি পেয়েছেন তিনি। আর সমস্ত শর্ত পূরণ করতে পারলে আগামী ২০২৭ সালের মার্চের পর মর্যাদাকর মেয়েদের বিগ ব্যাশ লিগ বা ডব্লিউবিবিএলেও খেলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে তার সামনে।
মুম্বাইয়ের যুব ক্রিকেট সিস্টেমে টপ-অর্ডার ব্যাটার ও অলরাউন্ডার হিসেবে খেলে একসময় সরফরাজ খানের মতো তারকাদের সঙ্গে লড়াই করা অনয়া লিঙ্গান্তরের প্রক্রিয়ার কারণে দীর্ঘদিন ক্রিকেট থেকে দূরে ছিলেন। একসময় নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ার চিরতরে শেষ হয়ে গেছে বলে আশঙ্কা করলেও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার এই সিদ্ধান্তকে নিজের জীবনের বড় একটি মোড় হিসেবে দেখছেন তিনি।
ভারতীয় দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অনয়া বলেন, ‘এটি আমার জন্য একটি দুর্দান্ত দিন, বিশেষ করে এই বিষয়টি জানার পর যে আমি ক্রিকেট খেলতে পারব। এমন একটা সময় ছিল যখন আমি ভেবেছিলাম যে আমি আর কখনো ক্রিকেট খেলব না, তবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে ধন্যবাদ, এটি আমাকে আরেকটি সুযোগ দিয়েছে।’
এছাড়া বম্বে টাইমসকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ‘আমি এখন থেকে অস্ট্রেলিয়ায় বিগ ব্যাশ লিগে খেলার যোগ্য। আমার জন্য এটি অবিশ্বাস্যরকম আবেগপূর্ণ, কারণ এমন একটা সময় ছিল যখন আমি সত্যি বিশ্বাস করেছিলাম যে আমি চিরতরে ক্রিকেটকে হারিয়েছি।’
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার এলিট পলিসি অনুযায়ী, ট্রান্সজেন্ডার নারীদের নারী ক্রিকেটে অংশ নিতে হলে রক্তে সিরাম টেস্টোস্টেরনের মাত্রা টানা ১২ মাস প্রতি লিটারে ১০ ন্যানোমোলের নিচে রাখতে হয় এবং নিয়মিত মেডিকেল মনিটরিংয়ের শর্ত মানতে হয়। অনয়ার সর্বশেষ রক্ত পরীক্ষায় টেস্টোস্টেরনের মাত্রা পাওয়া গেছে প্রতি লিটারে মাত্র ০.৬ ন্যানোমোল, যা পরীক্ষাগারের নির্ধারিত নারী সীমার মধ্যেই রয়েছে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কড়া নিয়ম থাকলেও ঘরোয়া লিগের ক্ষেত্রে স্থানীয় বোর্ডগুলোর স্বকীয়তা বজায় রাখার সুযোগ রয়েছে। এর আগে বিসিসিআইয়ের কাছে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলেও ভারতীয় বোর্ড থেকে কোনো সাড়া মেলেনি বলে জানা গেছে। বিগ ব্যাশার ড্র বা ওভারসিজ সিস্টেমে সুযোগ পাওয়ার আগে এখন অস্ট্রেলিয়ান ক্লাব ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণ করার চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত এই ২৫ বছর বয়সী ক্রিকেটার।