যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যা মামলা স্বামীর যাবজ্জীবন

‎ফরিদপুরের নগরকান্দায় স্ত্রী কহিনুর বেগমকে হত্যার দায়ে লিটন মিয়া লিটুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে লুকানোর অভিযোগে তাকে আরও তিন বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে ‎ফরিদপুরের বিশেষ দায়রা জজ ও বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) অশোক কুমার দত্ত এ রায় ঘোষনা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত লিটন মিয়া (৪২) নগরকান্দার শশা উত্তরপাড়া এলাকার মৃত আলাউদ্দিন মিয়ার ছেলে।

‎মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৬ বছর আগে লিটন মিয়ার সঙ্গে কহিনুর বেগমের বিয়ে হয়। তাদের দুই সন্তান রয়েছে। তবে বিয়ের পর থেকেই যৌতুকসহ পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কহিনুরকে নির্যাতন করতেন লিটন ও তার পরিবারের সদস্যরা। যৌতুকের দাবি পূরণ করতে না পারায় নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। একপর্যায়ে কহিনুরকে না জানিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেন লিটন। এরপর কহিনুর ও তার সন্তানদের বাড়ি থেকে চলে যেতে চাপ দেওয়া শুরু করে তার স্বামী লিটন। এ সময় লিটন বাড়ি না ছাড়লে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার হুমকিও দেন।

‎২০২১ সালের ৭ আগস্ট রাতে কহিনুর মেয়েকে নিয়ে একই ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে মেয়ের ঘুম ভেঙে গেলে সে মাকে বিছানায় দেখতে না পেয়ে পাশের ঘরে থাকা ভাইকে জানায়। পরে ভোরে স্বজনেরা লিটনের বাড়ির দক্ষিণপাশে পুকুরের উত্তরপাড়ে কহিনুরের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

‎এঘটনার পরদিন ৮ আগস্ট নগরকান্দা থানায় নিহতের ভাই রহমতউল্লাহ বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত লিটন মিয়াকে স্ত্রী হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে বৃহস্পতিবার দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেন।

‎রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান পিকু বলেন, এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।