ফরিদপুরের শহরতলীর বিল মাহমুদপুর এলাকা থেকে সুমাইয়া (১৪) নামে এক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীকে উদ্ধার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। এ ঘটনায় মাহেন্দ্রচালকসহ দুই যুবককে আটক করা হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে স্থানীয়দের সন্দেহ ও জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে কিশোরীসহ দুই যুবককে উদ্ধার ও আটক করা হয়।
স্থানীয়ভাবে ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সুমাইয়া ফরিদপুর আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। বর্তমানে পারিবারিক কারণে তার লেখাপড়া বন্ধ রয়েছে। মেয়েটি শহরের পশ্চিম খাবাসপুর এলাকায় দাদি ও ফুফুর সঙ্গে বসবাস করত। তার বাবা মমিদুল ইসলাম ওরফে সানবির বর্তমানে মাদক মামলায় কারাগারে রয়েছে। পারিবারিক কারণে মেয়েটির মায়ের সঙ্গে বাবার বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে আগেই।
পুলিশের কাছ থেকে জানা যায়, বুধবার রাত ৯টার দিকে দাদি ও ফুফুর নির্যাতনের শিকার হয়ে সুমাইয়া বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। পরে সে শহরতলীর ধুলদি এলাকার পাগলা বাবা ফকিরের বাড়িতে যায়। তবে রাত হয়ে যাওয়ায় ফকির বাড়ির লোকজন তাকে পরদিন সকালে আসতে বলে। এরপর সেখান থেকে বের হয়ে সুমাইয়া ধুলদি স্ট্যান্ডে পৌঁছালে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ফরিদপুরগামী একটি মাহেন্দ্রগাড়িতে ওঠে বসে। এ সময় গাড়িটির চালক ইকবাল (৩২) এবং তার সঙ্গে ছিলেন মজিদ বেপারী (২৯) নামের এক ব্যক্তি। এক পর্যায়ে সুমাইয়া কোতোয়ালি থানায় যাওয়ার কথা বললে মাহেন্দ্রচালক তাকে থানায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে গাড়ি চালাতে শুরু করে। এরপর পথে ফরিদপুর-ভাঙ্গা রাস্তার মোড় এলাকায় তারা খাবার খায়। খাওয়া শেষে সুমাইয়া কোতোয়ালি থানায় যেতে চাইলে গাড়ি চালক ও যাত্রী এত রাতে থানা খোলা থাকে না, জানিয়ে তাদের বাসায় যেতে বলে। পরে ইকবালের বাড়িতে না গিয়ে মাহেন্দ্রগাড়ির চালক শহরতলীর বিল মাহমুদপুর এলাকার মজিদ বেপারীর বাড়ির দিকে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে রাত একটার দিকে বিল মাহমুদপুর এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় নিরাপত্তাকর্মীরা গাড়িটি আটক করেন।
এ সময় গাড়িতে অল্পবয়সী এক কিশোরীকে দেখে স্থানীয়রা ইকবালকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি ওই কিশোরীকে তার স্ত্রী বলে পরিচয় দেন। এতে স্থানীয়দের মনে সন্দেহ হলে তারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরবর্তীতে কোতোয়ালি থানার পুলিশ গিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ সময় মেয়েটির সাথে থাকা দুই যুবককে আটক করা হয়। থানায় নিয়ে আসে। বর্তমানে কিশোরীকে নারী ডেস্কের থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহা. মাহমুদুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মেয়েটির পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। তার দাদী এবং ফুপু থানায় আসার পর তাদের সাথে কথা বলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে মেয়েটির সাথে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা এখন পর্যন্ত ঘটেনি। পরিবার মেয়েটিকে নিতে অসম্মতি জানালে পরবর্তীতে তাকে সেফহোম এ পাঠানো হবে। এ ঘটনায় আটক দুই ব্যক্তির খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে অপরাধমূলক কোন বিষয় থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেরানীগঞ্জে হেরোইনসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
সাটুরিয়ায় ভেজাল সার বিক্রির অভিযোগে ২ লাখ টাকা জরিমানা