স্প্যানিশ লা লিগায় বুলিংয়ের শিকার! এমন শিরোনাম পড়লে যে কেউ বলে দিবে নামটা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। মাঠে জাদুকরী পারফর্ম, গোল করা, করানো ছাপিয়েও এই না চাওয়া ঘটনার সংখ্যাটাও বাড়ছে ভিনির। যার সবশেষ চিত্র এবারে রিয়াল মাদ্রিদের লিগ মৌসুমের শুরুর ম্যাচেই। সেটি ছাড়া এবার আরও এক পরিসংখ্যানে উপেক্ষিতদের কাতারে পড়েছেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। কড়া ট্যাকল ও ফাউলের শিকার হয়ে তার সুবিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে!
গত আট বছর ধরে রিয়ালের জার্সিতে মাঠে নামলেই প্রতিনিয়ত প্রতিপক্ষের ট্যাকল ও ফাউলের শিকার হতে হচ্ছে তাকে। সর্বশেষ এস্পানিওলের বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতেই ভিনির পিঠে প্রতিপক্ষের নির্মম আঘাত এবং বিপরীতে তাদের কোনো কার্ড না পাওয়ার ঘটনাটি আবারও প্রশ্ন তুলেছে স্প্যানিশ রেফারিং নিয়ে। স্পেনের ঘরোয়া লিগে লা লিগায় প্রতিপক্ষের ফাউলের শিকার হয়ে রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি ক্লাবটি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে রেফারিদের পক্ষপাতমূলক আচরণকে, যেখানে বার্সেলোনার তরুণ তুর্কি লামিনে ইয়ামালের সঙ্গে হওয়া আচরণের ব্যবধান চোখে পড়ার মতো।
স্প্যানিশ গণমাধ্যমে ডিআরিও এএস-এর এক পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৯-২০ মৌসুম থেকে লা লিগার মাঠে সবচেয়ে বেশিবার ফাউলের শিকার হয়েছেন ভিনিসিয়ুস। এ পর্যন্ত তিনি ৪৮৯ বার প্রতিপক্ষের ট্যাকলের মুখে পড়েছেন, যা এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা দানি পারেহোর চেয়েও অনেক বেশি।
পরিসংখ্যানটি আরও বলছে, ভিনিকে ১৬ বার ফাউল করার পর প্রতিপক্ষ হলুদ কার্ড দেখে, অথচ বার্সেলোনার লামিনে ইয়ামালের ক্ষেত্রে তা মাত্র ৩ বার। লাল কার্ডের ক্ষেত্রেও পরিসংখ্যান অবিশ্বাস্য; ভিনিসিয়ুসকে ৬৮ বার ফাউল করলে তবেই লাল কার্ড পান প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়, যেখানে ইয়ামালের বেলায় এই সংখ্যা মাত্র ১১।
লা লিগার এমন দ্বিমুখী নীতির বিপরীতে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের চিত্রটি সম্পূর্ণ আলাদা। ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় ভিনিসিয়ুস ১৩১টি ফাউল নিয়ে সবচেয়ে বেশি ফাউল হওয়া খেলোয়াড় হলেও, সেখানে ইউরোপের রেফারিরা ভিনি এবং ইয়ামাল উভয়কেই সমান চোখে দেখেন এবং প্রতি ৩টি ফাউলেই হলুদ কার্ড দেখান।
এস্পানিওলের বিপক্ষে সেই ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে রিয়ালে কোচ হোসে মরিনহো ভিনির ওপর এই অন্যায় আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সরাসরি বলেছিলেন, ‘খেলার প্রথম মিনিট থেকেই মনে হয় একটা সিস্টেম কাজ করে: এখন আমি তাকে ফাউল করলাম, এবার তুমি করলে, এক খেলোয়াড় হলুদ কার্ড নিয়ে মাঠ ছাড়ল আর আরেকজন সেটা ছাড়াই খেলল... আমরা এমন এক সমাজে বাস করি যা বুলিংয়ের বিরুদ্ধে, কিন্তু ভিনির ক্ষেত্রে আমরা এখনো বুলিংয়ের যুগেই পড়ে আছি।’
এমন পরিসংখ্যান একজন ফুটবলারের ক্যারিয়ারের জন্যই নয়, বরং সার্বিকভাবে স্প্যানিশ ফুটবলের ভাবমূর্তির জন্যও বড় প্রশ্নচিহ্ন। ইউরোপীয় মঞ্চে যেখানে নিরপেক্ষ ও সমান রেফারিংয়ের দেখা মিলছে, সেখানে লা লিগার ঘরের মাঠে কেন এই বৈষম্যের শিকার হতে হবে এই প্রশ্নের উত্তরই যেন এখন খুঁজছে রিয়াল শিবির।