দীর্ঘ তেরো বছর পর লা লিগার ম্যাচে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে কোচ হিসেবে ফিরলেন জোসে মরিনহো। তবে নিজের চেনা ঘরের মাঠে তার প্রত্যাবর্তনের রাতটা খুব একটা সহজ ছিল না। প্রথমার্ধের মলিন পারফরম্যান্সে সমর্থকদের দুয়ো শুনতে হয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদকে। তবে বিরতির পর কিলিয়ান এমবাপ্পের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক আর জাদুকরি ফুটবলে ঘুরে দাঁড়িয়ে রিয়াল সোসিয়েদাদকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে লস ব্লাঙ্কোসরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে সোসিয়েদাদ। প্রথমার্ধের স্লথ ও ছন্দহীন খেলায় গ্যালারির ক্ষোভের মুখে পড়ে রিয়াল। তবে ৪০ মিনিটে ফেদে ভালভার্দে চোখ জুড়ানো পাসে ডি-বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে গোল খরা কাটান এমবাপ্পে। যদিও এর চার মিনিট পরেই গোল করে সমতা ফেরায় সোসিয়েদাদের লুকা সুচিচ।
বিরতিতে ১-১ সমতার পর মার্ক কুকুরেল্লাকে মাঠে নামান মরিনহো, যার সুবাদে রূপ বদলায় রিয়াল। ৬০ মিনিটে জুড বেলিংহামের সঙ্গে দারুণ এক ওয়ান-টু খেলে এমবাপ্পে দলকে আবারও এগিয়ে দেন। এরপর ৬৮ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ব্যবধান বাড়িয়ে ৩-১ করেন এবং ৮০ মিনিটে চমৎকার এক চিপ শটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন ফরাসি তারকা এমবাপ্পে।
ম্যাচ শেষে সমর্থকদের দুয়ো ও দলের ঘুরে দাঁড়ানো নিয়ে এক প্রেস কনফারেন্সে জোসে মরিনহো সরাসরি বলেন, ‘বিক্ষোভ ও করতালির মধ্যে সবসময়ই ন্যায়ের একটা অনুভূতি থাকে এবং মাঝেমধ্যে এই দুয়ো শোনাটা কারও জন্যই ক্ষতিকর নয় এটি আপনাকে আরও পরিণত হতে সাহায্য করে।’ বার্নাব্যুর সমর্থকদের মানসিকতা তুলে ধরে তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা সবাই সান্তিয়াগো বার্নাব্যুকে চিনি এবং এখানকার সমর্থকরা কতটা কড়া তাও জানি। চাপের মুখে আমার খেলোয়াড়েরা যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে এবং দারুণ এক দ্বিতীয়ার্ধ উপহার দিয়েছে, তাতে আমি অত্যন্ত খুশি। এই অর্ধে আমরা আরও কিছু গোল করতে পারতাম।’
এমবাপ্পের ফর্ম ও দলীয় পারফরম্যান্স নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে পর্তুগিজ এই কোচ বলেন, ‘এই ছেলেটি অবিশ্বাস্য। আমি তাকে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ইতিহাস গড়তে এক প্রকার ক্ষুধার্ত দেখতে পাচ্ছি এবং এটি এমন একটি দল, যেখানে কিলিয়ান কিলিয়ানের মতোই অসাধারণ হওয়া সত্ত্বেও দল হিসেবে তাদের প্রশংস না করে পারা যায় না।’
এই জয়ে দুই ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে আছে রিয়াল। লা লিগায় তাদের পরের ম্যাচ আগামী রবিবার, মালাফার বিপক্ষে।