মার্কিন রণতরী নিয়ে ইরানের ব্যঙ্গাত্মক অ্যানিমেশন ভিডিও

মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে নিয়ে লেগো-স্টাইলের একটি অ্যানিমেশন ভিডিও প্রকাশ করেছে ইরানের সৃজনশীল প্রতিষ্ঠান এক্সপ্লোসিভ মিডিয়া। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থানের কারণে রণতরীটির ক্রুদের মধ্যে কথিত খাদ্য ও পানির সংকট, খারাপ জীবনযাপন, ক্লান্তি ও মনোবল কমে যাওয়ার বিষয়গুলো ভিডিওতে ব্যঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরা হয়েছে। খবর ফার্স নিউজ। 

ভিডিওতে বলা হয়, ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রে অবস্থান করছে। এটি ২৫০ দিনেরও বেশি সময় ধরে মোতায়েন রয়েছে এবং বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রণতরীটি টানা ২০০ দিনেরও বেশি সময় কোনো বন্দরে না থেমে সমুদ্রে ছিল।

এমন দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার ফলে রণতরীটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নাবিকদের পরিবারের সদস্য ও কয়েকজন আইনপ্রণেতার বরাত দিয়ে ভিডিওটিতে দাবি করা হয়েছে, জাহাজটিতে খাদ্য ও পানির ঘাটতি, পানিদূষণের আশঙ্কা, নষ্ট টয়লেট ও প্লাম্বিং ব্যবস্থা, ছত্রাক এবং নিম্নমানের জীবনযাপনের মতো সমস্যা দেখা দিয়েছে।

এ ছাড়া দীর্ঘ সময়ের দায়িত্ব পালনে নাবিকদের মধ্যে চরম ক্লান্তি, মনোবল কমে যাওয়া এবং মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। কয়েকজন নাবিকের জাহাজ থেকে সমুদ্রে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টার ঘটনাও ঘটেছে বলে ভিডিওটিতে দাবি করা হয়।

‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এ প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিন সদস্য রয়েছেন। দীর্ঘ কয়েক মাস সমুদ্রে অবস্থানের ফলে এর প্রভাব ক্রুদের ওপর কতটা পড়ছে, সেটিই এখন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে বলে অ্যানিমেশনটিতে তুলে ধরা হয়।

তবে এসব অভিযোগের কিছু বিষয় প্রত্যাখ্যান করেছে পেন্টাগন। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ পরিস্থিতিটিকে ‘সম্পূর্ণ ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন।

ভিডিওটিতে আরও প্রশ্ন তোলা হয়—একটি আধুনিক বিমানবাহী রণতরী কতদিন টানা সমুদ্রে কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে, এর আগে দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েনের চাপ তার নাবিকদের পাশাপাশি সামরিক মিশনের ওপরও প্রভাব ফেলতে শুরু করবে?

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্য থেকে ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ ইতোমধ্যে ফিরে গেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের দিকে যাত্রা করেছে। এটি আধুনিক সময়ে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলোর অন্যতম দীর্ঘতম মোতায়েন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ইরানি অ্যানিমেশনটির মাধ্যমে মূলত প্রশ্ন তোলা হয়েছে—দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধকালীন মোতায়েন কি কেবল মার্কিন নৌবাহিনীর স্বাভাবিক বাস্তবতা, নাকি এটি আরও বড় কোনো সমস্যার ইঙ্গিত?