টিএসসিসিতে একটি অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) দুই বিভাগের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত রসায়ন বিভাগের ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফেরদৌস হাসানকে আইসিইউতে পাঠানো হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এ এইচ এম খুরশীদ আলম জানিয়েছেন বর্তমানে তিনি আইসিইউতে শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
এ ঘটনায় ফেরদৌস হাসানসহ রসায়ন বিভাগের আরও তিন শিক্ষার্থী সাজিদুর, নোমান ও সামিন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহত ফেরদৌস হাসান ও সাজিদুরকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে ফেরদৌসকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।
মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব আবদুল লতিফ হলের পেছন থেকে এ সংঘর্ষের শুরু হয় এবং পরে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও রসায়ন বিভাগের একাডেমিক ভবন পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় একে অপরের ভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
জানা যায়, প্রথমে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী নবাব আবদুল লতিফ হলের পেছনে রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মারধর করেন। এতে রসায়ন বিভাগের দুই শিক্ষার্থী আহত হন।
এ ঘটনার পর রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের একাডেমিক ভবন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনে হামলা ও ভাঙচুর করেন। এ সময় ভবনটির দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা থেকে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে রসায়ন বিভাগের আরও দুই শিক্ষার্থী আহত হন।
রসায়ন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, তারা ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সামনে গেলে সেখানে তাদের কয়েকজনকে ঢিল ছুড়ে আহত করা হয়। পরবর্তীতে তারা সেখান থেকে চলে গেলে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজের শিক্ষার্থীরা রসায়ন বিভাগের সামনে এসে তাদেরকে লাঠি নিয়ে ধাওয়া করে এবং বিভাগের ভেতরে ঢুকতে না পেরে বাইরে থেকে ভাংচুর করে। এ সময়েই ফেরদৌস হাসানকে রসায়ন বিভাগের সামনেই মারধর করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এক শিক্ষার্থী জানান, তাকে (ফেরদৌস) হাসপাতালে নিয়ে যাবার মতো তার বিভাগের কেউ সেখানে না থাকায় ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের কয়েকজনই তাকে রিকশায় করে রাবি মেডিকেল সেন্টারে পাঠানোর ব্যাবস্থা করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, টিএসসিসিতে একটি অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও রসায়ন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিরোধের সমাধান হয়নি। পরে বিষয়টি সংঘর্ষে রুপ নেয়।
আহত ফেরদৌস হাসানের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এ এইচ এম খুরশীদ আলম বলেন, "তার সর্বশেষ অবস্থা যা জানতে পেরেছি, সে আইসিইউতে ভালো আছে। বর্তমান সে শঙ্কামুক্ত। অক্সিজেন মাস্ক ছাড়াই সে এখন স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাস নিচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ডাক্তার তাকে একটা সিটি স্ক্যান করতে দিয়েছে। সিটি স্ক্যানের রিপোর্ট পাওয়ার পরে পরবর্তীতে যে চিকিৎসা প্রয়োজন তাকে দেওয়া হবে। কিন্তু সর্বশেষ তার অবস্থা এখন ভালো।