জাবিতে দরপত্র ছাড়াই মাঠ সংস্কার: কাজ স্থগিত, তদন্ত কমিটি গঠন

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলসংলগ্ন খেলার মাঠ সংস্কারে সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর) লঙ্ঘনের অভিযোগের পর কাজ স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বুধবার (২৭ আগস্ট)  বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

তদন্ত কমিটিতে গাণিতিক ও পদার্থবিষয়ক অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. মাহবুব কবিরকে সভাপতি করা হয়েছে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. খন্দকার মোহাম্মদ শরিফুল হুদা এবং দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন। প্রকৌশল অফিসের উপ-প্রধান প্রকৌশলী মো. আশিকুর রহমানকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলসংলগ্ন খেলার মাঠ সংস্কারে পিপিআর লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং কোনো দরপত্র ছাড়া কাজ দেওয়া হয়েছে- এমন বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে এসেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মাঠ সংস্কারের কাজ স্থগিত করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে মাঠ সংস্কার শুরু হওয়ার পর কাজের প্রক্রিয়া নিয়ে  অনিয়মের অভিযোগ ওঠে । বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প দপ্তর সূত্রে জানা যায়, হলের অসমাপ্ত খেলার মাঠ সংস্কারে বাজেট ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৭৫ হাজার ২৫৭ টাকা।

কাজের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বলেছিলেন, প্রকল্প অফিস এলটিএম বা সীমিত দরপত্র পদ্ধতির মাধ্যমে ঠিকাদার নির্বাচন করেছে। তার দাবি ছিল, ‘হারুন এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে এবং হল প্রশাসন শুধু কাজটি তদারকি করে বুঝে নেবে।

তবে প্রাধ্যক্ষের এই দাবি পুরোপুরি নাকচ হয়ে যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প দপ্তরের উপপরিচালক ফাহমিদা মাছউদ-এর মন্তব্যে। তিনি বলেন, টেন্ডার করা বা ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া প্রকল্প দপ্তরের কাজ নয়, এটি সম্পূর্ণ হল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। টেন্ডার ছাড়া এত টাকার কাজ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। হল কর্তৃপক্ষই টেন্ডার করবে এবং তাদের মাধ্যমেই বিল প্রসেস হবে।

প্রাধ্যক্ষ ও প্রকল্প দপ্তরের এমন পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের মধ্যেই মাঠে কাজ করা ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে দরপত্র না হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম  ‘হারুন এন্টারপ্রাইজের’ কথা বললেও বাস্তবে মাঠে কাজ করছিলেন আবুল হোসেন নামের এক ঠিকাদার, যাঁর প্রতিষ্ঠানের নাম ‘রুবেল এন্টারপ্রাইজ’।

কোনো দরপত্রে অংশ নিয়েছিলেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে আবুল হোসেন বলেন, ‘না, কোনো টেন্ডার হয় নাই। আমি সরাসরি স্যারের (প্রাধ্যক্ষ) কাছ থেকেই কাজ নিছি।’

সরকারি কাজ করার মতো কোনো বৈধ ঠিকাদারি লাইসেন্স তাঁর নেই বলেও তিনি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘যাদের অরিজিনাল লাইসেন্স আছে তাদের সরকারি কাগজপত্র জমা দিয়ে কাজ আনতে হয়। আমাদের তো লাইসেন্স নাই, আমরা তাদের জায়গা থেকে কাজটা নিই।’

কাগজে-কলমে অন্য কোনো লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে এ কাজের বিল তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি জানান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত