মাদারীপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেকারি পণ্য উৎপাদন, নিম্নমানের খাদ্য সংযোজন দ্রব্য ব্যবহার, খাদ্যকর্মীদের স্বাস্থ্য সনদ না থাকাসহ বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে শাহজালাল বেকারিকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মাদারীপুর সদর উপজেলার বাঁশতলা, তরমুগরিয়া এলাকায় এ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। জেলা প্রশাসন, মাদারীপুর ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের যৌথ উদ্যোগে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী এ অভিযান পরিচালিত হয়।
মোবাইল কোর্টে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মিল্লাত হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, মাদারীপুরের নিরাপদ খাদ্য অফিসার রফিকুল ইসলাম এবং আনসার সদস্যদের একটি দল।
অভিযানে শাহজালাল বেকারির কারখানায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেকারি পণ্য উৎপাদন, নিম্নমানের খাদ্য সংযোজন দ্রব্য ব্যবহার, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, খাদ্যকর্মীদের স্বাস্থ্য সনদ না থাকা এবং কীটপতঙ্গ দমনের ব্যবস্থা না থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে।
এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের সব পণ্যের বাধ্যতামূলক নিবন্ধন না থাকা, কেক তৈরিতে ব্যবহৃত রঙিন কাগজ ও ফ্লেভারের যথাযথ সনদ না থাকা, মেঝেতে খাবার রাখা, রশিদ ও লেবেলবিহীন রাসায়নিক ব্যবহার এবং কাঁচামাল ক্রয়-বিক্রয়ের চালান প্রদর্শনে ব্যর্থ হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়।
অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ এসব অপরাধের দায় স্বীকার করলে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী ২ লাখ (২,০০,০০০) টাকা অর্থদণ্ড আরোপ ও আদায় করা হয়।
এ বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্বদানকারী সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মিল্লাত হোসেন বলেন, খাদ্য উৎপাদন ও বিক্রির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ মেনে নেওয়া হবে না। ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মাদারীপুর নিরাপদ খাদ্য অফিসার রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠানটিকে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম থেকে বিরত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে পরিদর্শনে সন্তোষজনক পরিবর্তন না পাওয়া গেলে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।