এশিয়ান গেমসের আগে নতুন জটিলতায় পড়েছেন বাংলাদেশ হকি দলের তারকা খেলোয়াড় রাসেল মাহমুদ জিমি। জাপানের ভিসা প্রক্রিয়া কেন্দ্র করে তার চীন সফর নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এশিয়ান গেমসের অ্যাক্রিডিটেশন জটিলতার কারণে নতুন করে ভিসা করতে হওয়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
এশিয়ান গেমসের অ্যাক্রিডিটেশন ডেডলাইন শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশে ২৭টি ফেডারেশনের কমিটিতে পরিবর্তন আসে। এরপর বিভিন্ন ফেডারেশন থেকে কোচ, কর্মকর্তা ও খেলোয়াড় পরিবর্তনের আবেদন করা হয়। দীর্ঘ তালিকায় থাকা জিমিসহ বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের ২০ জনের বেশি খেলোয়াড় ও কোচের এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। পরে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) সভাপতি জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়ার কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সেই জটিলতার সমাধান করেন।
তবে নতুন করে তৈরি হয়েছে ভিন্ন সমস্যা। এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ কন্টিনজেন্টের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড ঢাকায় পৌঁছালেও নতুন করে আবেদন করা ২৩ জনের কার্ড ঢাকায় পাঠানো হবে না। তাদের জাপানে গিয়ে ভিসা নিয়ে অংশ নিতে হবে। এখানেই বিপাকে পড়েছেন জিমি। আগামী ২ অক্টোবর বাংলাদেশ হকি দলের চীন যাওয়ার কথা। কিন্তু জাপানের ভিসার জন্য পাসপোর্ট ঢাকায় জাপান দূতাবাসে জমা দিলে সেটি ফেরত পেতে সময় লাগতে পারে। ফলে জিমির চীন সফর অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। জিমি চীনে দলের সঙ্গে যেতে না পারলে হকি দলের প্রস্তুতিতেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ চীন সফরে দলের অনুশীলন ও প্রস্তুতিতে তার উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। তাই তাকে রেখেই চীন সফরের পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ইসতিয়াক সাদেক বলেন, ‘জিমি ছাড়া খেলোয়াড়দের মধ্যে আর কারও জাপানের ভিসা প্রয়োজন হচ্ছে না। ভিসার আবেদন করার পর চীন সফর শেষ করে দেশে ফিরে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার সুযোগ পাওয়া যায় কি না, সেটি দূতাবাসের কাছে অনুরোধ করা হবে। বিকল্প হিসেবে চীনে থাকা জাপান দূতাবাস থেকে ভিসা নেওয়ার চেষ্টাও করা হতে পারে।’
সিরিয়া-আমিরাতের গ্রুপে বাংলাদেশ
এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেওয়ার মিশনে কঠিন গ্রুপে পড়েছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে এএফসি সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ড্রয়ে বাংলাদেশের অবস্থান হয়েছে ‘সি’ গ্রুপে। এই গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিরিয়া, ভুটান ও ম্যাকাও।
গ্রুপে মধ্যপ্রাচ্যের দুই শক্তিশালী দল সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সিরিয়ার উপস্থিতিই বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এর মধ্যে ‘সি’ গ্রুপের আয়োজকও হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ফলে এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার স্বপ্নপূরণ করতে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের খেলতে হবে মরুর দেশেই।
এবারের বাছাই পর্বে এশিয়ার ৩৫ দেশকে সাতটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি গ্রুপে রয়েছে পাঁচটি করে দল। আগামী ৮ থেকে ২০ নভেম্বরের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে বাছাই পর্বের ম্যাচগুলো।
বাছাই পর্বের নিয়মানুযায়ী, সাত গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল সরাসরি অনূর্ধ্ব-১৭ এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা পাবে। তাদের সঙ্গে যোগ দেবে স্বাগতিক উজবেকিস্তান এবং এশিয়ার আরও ৯টি শক্তিশালী দল জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, অস্ট্রেলিয়া, কাতার, সৌদি আরব, তাজিকিস্তান ও ভিয়েতনাম।