চোখে শুষ্কতা কেন দেখা দেয়

ডিজিটাল যুগে শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই কম্পিউটার, মোবাইল অথবা অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসে স্ক্রিন ব্যবহার করে।

এআই আসার পর ডিজিটাল স্ক্রিন-নির্ভরতা আরও বাড়ছে। দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে কাজ করলে চোখে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। যেমন চোখ শুষ্ক হয়ে আসে, চোখে জ্বালাপোড়া, চুলকানি দেখা দেয়, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসে, মাথাব্যথা, ঘাড়ব্যথা ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়। এটিকে বলা হয় কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম বা ডিজিটাল স্ক্রিন সিনড্রোম।

কেন হয়

চোখের উপরিভাগে বিদ্যমান টিয়ার বা চোখের পানি স্বাভাবিক নিয়মে বাতাসে বাষ্পীভূত হয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে কর্নিয়াতে বিদ্যমান স্নায়ুর মাধ্যমে সিগন্যাল যায় লেক্রিমাল গ্রন্থিতে, যা দ্রুত টিয়ার প্রবাহিত করে ঘাটতি পূরণ করে। এটি চোখের একটি স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া। প্রতি মিনিটে ১৫-২০ বারের মতো পলক ফেলে টিয়ার ফিল্মকে সামলে রাখে চোখের পাতা। ডিজিটাল স্ক্রিনে যখন চোখ থাকে, তখন চোখের পলক ফেলার হার অর্ধেকের বেশি কমে যায়। ফলে টিয়ার ফিল্ম ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং চোখে শুষ্কভাব অনুভূত হয়। শুষ্কতার প্রভাবে কর্নিয়ার স্নায়ু কোষগুলো জ্বালাপোড়া ও ব্যথার অনুভূতির সৃষ্টি করে। দীর্ঘক্ষণ অব্যাহত থাকলে এক সময় এটি প্রচ- অস্বস্তির জন্ম দেয় এবং কাজের ব্যাঘাত সৃষ্টি করে।

করণীয়

চোখকে ডিজিটাল আই স্ট্রেইন থেকে নিরাপদ রাখতে কিছু কাজ অবশ্যকরণীয়।

          স্ক্রিনটি চোখের সমান্তরাল থেকে কিছুটা নিচুতে রাখতে হবে।

          স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা চোখের জন্য আরামদায়ক হতে হবে।

          ২০ মিনিট পরপর বিরতি নিতে হবে।

          স্ক্রিনটি চোখের খুব কাছে নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। সাধারণত ২০-২৮ ইঞ্চি দূরে রাখাভালো। চোখকে ভেজা রাখতে আর্টিফিশিয়াল টিয়ার ব্যবহার করতে হবে।

          অপ্রয়োজনীয় স্ক্রিনের ব্যবহার সীমিত করতে হবে।

          লাইফস্টাইলে পরিবর্তন আনতে হবে।

          ঘুমের ঘাটতি রাখা যাবে না। রাতে স্ক্রিনের ব্যবহার উচিত নয়।

          ঘন ঘন পানি খেতে হবে। নিয়মিত কায়িক পরিশ্রম করতে হবে। ঘাড়ের ব্যায়াম করতে হবে এবং চোখের রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শে চলা ভালো।