অনেকগুলো আগ্নেয়গিরির সমন্বয়ে তৈরি ‘গালাপাগোস’ দ্বীপপুঞ্জ। দ্বীপপুঞ্জটি বিশ্বের বন্যপ্রাণী এবং মানবজাতির মিলিত জীবনধারার অসাধারণ মেলবন্ধন। এই দ্বীপপুঞ্জ ১২০টি দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত। এটি ভূকম্পন এবং অগ্ন্যুৎপাতের ফলে সৃষ্টি হয়েছে, যা স্থানটিকে আরও দর্শনীয় করে তুলেছে। দ্বীপপুঞ্জের মাত্র চারটিতে ৩০-৩৩ হাজারের কাছাকাছি মানুষ থাকেন। প্রত্যেকে স্প্যানিশ ভাষা বলেন। সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য জনপ্রিয়তার শীর্ষে ইকুয়েডরের এই দ্বীপগুলো। প্রচুর এন্ডেমিক তথা বিরল প্রজাতি আছে দ্বীপগুলোতে। গালাপাগোস ছাড়া আর কোথাও দেখা যায় না প্রজাতিগুলো। দ্বীপগুলো ইকুয়েডরের সমুদ্রসৈকত থেকে ৯৭২ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। গালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জের বিখ্যাত এবং প্রতীকী প্রাণী হলো দৈত্যাকার কচ্ছপ এবং কাঁকড়া। স্প্যানিশ শব্দ ‘গালাপাগো’ অর্থ স্যাডল বা কচ্ছপের খোল, যা থেকে দ্বীপপুঞ্জের নামকরণ হয়েছে। বিষুবরেখার উত্তরে পাওয়া একমাত্র পেঙ্গুইন প্রজাতি রয়েছে এখানেই। এই প্রাণীর সুবিশাল প্রাচুর্য থাকায়, গালাপাগোসকে প্রাণিজগতের ‘মাতৃভাণ্ডার’ বলা হয়েছে। আবার অনেকে তাকে বলেন ‘পৃথিবীর ভূ-স্বর্গ’। প্রকৃত অর্থেই, জীববৈচিত্র্যের অপরূপ ভা-ার গালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জ। মূল ভূখ- থেকে অনেক দূরে হওয়ায়, একসময় দ্বীপগুলো ছিল ডাকাতদের আস্তানা। এখানে আরও রয়েছে সামুদ্রিক ইগুয়ানা, জায়ান্ট কচ্ছপ, নীল পায়ের বুবি পাখিসহ বিরল প্রজাতির বিভিন্ন প্রাণী। এদের পৃথিবীর অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। দ্বীপপুঞ্জের পাশে তিন মহাসাগরের মিলনস্থলের জীববৈচিত্র্যকে, ‘জীবন্ত জাদুঘর ও বিবর্তনের প্রদর্শনী’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে ইউনেস্কোর ওয়েবসাইটে।