নেপাল-তিব্বত সীমান্তের দুর্যোগকবলিত এলাকায় আবারও উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ। নতুন করে তৈরি হওয়া একটি হ্রদ থেকে পানি বের হওয়ার প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর উদ্ধার তৎপরতা পুনরায় শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। খবর সিএনএন এর।
এর আগে হ্রদটির পানির উচ্চতা বাড়তে থাকায় প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে নতুন করে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কায় ওই এলাকায় উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। এখন তিব্বতের অংশে হ্রদ থেকে ধীরে ধীরে যে পানি বের হচ্ছিল, তা বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, পরিস্থিতি আরও ভালোভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য হ্রদের আশপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। আগামী কয়েক ঘণ্টায় হ্রদের পানির পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন কর্মকর্তারা।
এদিকে, নেপাল পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭৫ জনে দাঁড়িয়েছে। দুর্যোগের ৪৮ ঘণ্টারও বেশি সময় পরও নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছিল।
তিব্বতের অংশে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫৫০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে দুই পক্ষের নিখোঁজের পরিসংখ্যানে একই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
নতুন করে বন্যার আশঙ্কায় উদ্ধারকারীদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রেড ক্রসের এক কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন, দ্বিতীয় দফায় বন্যা আঘাত হানতে পারে—এমন আশঙ্কার মধ্যে জীবিতদের উদ্ধারে কাজ করা উদ্ধারকারীরা ‘চরম সতর্ক’ অবস্থায় রয়েছেন।
এর আগে নেপাল পুলিশ সতর্ক করে জানিয়েছিল, তিব্বতের অংশে একটি পানির বাঁধ ভেঙে গেছে। পরবর্তী সময়ে চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও জানায়, ভূমিধসের পর তৈরি হওয়া প্রাকৃতিক বাঁধের হ্রদ থেকে পানি উপচে পড়া শুরু হয়েছে। ফলে দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় নতুন করে ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।