নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ ৩ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার (৩১ মিলিয়ন ডলার) জরুরি সহায়তা চেয়েছে। গত ২৬ আগস্ট তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন নেপালের রাসুয়া জেলায় হিমবাহের বরফ, কাদা ও পাথরের ধস নেমে সৃষ্ট এই আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ (আইএফআরসি) বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) এই জরুরি আবেদন জানায়। এর আগে তাৎক্ষণিক জীবনরক্ষাকারী কার্যক্রমে সহায়তার জন্য সংস্থাটি ১০ লাখ সুইস ফ্রাঁ ছাড় করেছে।
আগামী দুই বছর এই তহবিল ব্যবহার করে প্রথমে জরুরি দুর্যোগ মোকাবিলা এবং পরে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা দেওয়া হবে।
আইএফআরসির মহাসচিব জগন চাপাগাঁই এক বিবৃতিতে বলেন, ‘দুর্যোগের ভয়াবহতার চিত্র ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে। আমরা জানি, পুরো গ্রাম পানির স্রোতে ভেসে গেছে। আগামী কয়েক ঘণ্টা ও দিনগুলোতে মানুষের প্রয়োজন আরও বাড়বে।’
তিনি বলেন, ‘যেসব মানুষ ঘরবাড়ি ও জীবিকার উৎস হারিয়েছেন, তাদের ঘুরে দাঁড়ানো ও নতুন করে জীবন গড়তে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা প্রয়োজন হবে।’
গত বুধবার প্রবল বেগে নেমে আসা বরফশীতল পানি ও কাদার স্রোত অনেকটা সুনামির ঢেউয়ের মতো আঘাত হানে। এতে কাদামাটির স্রোতে জনপদ তলিয়ে যায়, ঘরবাড়ি ভেসে যায় এবং সেতু ও বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আইএফআরসি জানিয়েছে, প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ৯৩ হাজার মানুষ এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারেন। দুর্গম এলাকাগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এখনও নেওয়া হচ্ছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, দুর্গত এলাকাগুলো প্রত্যন্ত হওয়ায় এবং সেখানকার যোগাযোগ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্যোগের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন রয়েছে এমন মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছানো—দুটিই কঠিন হয়ে পড়েছে।
রেড ক্রসের এই তহবিল নেপাল রেড ক্রসের স্থানীয় দলগুলোর কার্যক্রমে সহায়তা করবে। এর আওতায় আশ্রয়, নগদ সহায়তা, প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রী, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি, মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোসামাজিক সহায়তা এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের ব্যবস্থা থাকবে।
আইএফআরসি জানিয়েছে, নেপাল রেড ক্রসের (এনআরসি) দলগুলো ইতোমধ্যে দুর্গতদের খাবার, পানি এবং ত্রাণসামগ্রী সরবরাহ করছে। এসব সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ত্রিপল, কম্বল, প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম, স্ট্রেচার ও মরদেহ বহনের ব্যাগ।
নেপাল সীমান্তে বিপজ্জনক হ্রদ, নতুন বন্যার শঙ্কা
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে বন্যা: ৫৫৮ নিখোঁজ, উদ্ধারকাজে চীনা কর্মীরা
সহায়তা দিতে প্রস্তুত বাংলাদেশ, প্রয়োজন হলে জানাবে নেপাল