মানবতার জয়গান গেয়ে উয়েফার ‘প্রথম’ পুরস্কার মার্কিনহোসের

ফুটবল মানেই গোল, ড্রিবল কিংবা শিরোপা জয়ের উল্লাস; সাধারণত এমনটাই দেখে অভ্যস্ত বিশ্ব। তবে সেই চিরাচরিত ধারণাকে বদলে দিয়ে ফুটবলের আসল সৌন্দর্য অর্থাৎ মানবতা ও সহানুভূতির এক অনন্য নজির স্থাপন করলেন প্যারিস সেন্ট জার্মেইর (পিএসজি) ডিফেন্ডার ও অধিনায়ক মার্কিনহোস।

২০২৬ উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের ঠিক পরেই প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে সান্ত্বনা দেওয়ার মহৎ এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করায় উয়েফার নতুন পুরস্কার ‘রেসপেক্ট: বিয়ন্ড দ্য গেম অ্যাওয়ার্ড’-এর প্রথম বিজয়ী হিসেবে ইতিহাস গড়লেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। চ্যাম্পিয়নস লিগ ড্রয়ের পার্শ্ববর্তী সময়ে ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে এই নতুন পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়।

চলতি বছরের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে আর্সেনালকে হারিয়ে পিএসজির ইউরোপসেরা হওয়ার মুহূর্তটি ছিল চরম উত্তেজনার। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি শ্যুটআউটে আর্সেনালের ডিফেন্ডার ও স্বদেশী গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েসের মিস করার সুবাদেই নিশ্চিত হয় পিএসজির শিরোপা জয়। সতীর্থরা যখন উৎসবে মাতোয়ারা, ঠিক সেই মুহূর্তে উদযাপনে যোগ না দিয়ে মার্কিনহোস সোজা ছুটে যান কান্নায় ভেঙে পড়া স্বদেশী ও প্রতিপক্ষ গ্যাব্রিয়েলের কাছে। ফাইনালে জয়-পরাজয়ের সীমানা ছাড়িয়ে প্রতিপক্ষকে সান্ত্বনা দেওয়ার এই হৃদয়ছোঁয়া দৃশ্যটিই মূলত নজর কাড়ে উয়েফার।

খেলোয়াড়দের এই মানবিক দিকটিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে উয়েফা নতুন এই বার্ষিক পুরস্কারটি চালু করেছে। চ্যাম্পিয়নস লিগ ড্রয়ের অনুষ্ঠানে এই পুরস্কারের ঘোষণা দিয়ে উয়েফা সভাপতি আলেকজান্ডার সেফেরিন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মার্কিনহোস মাত্রই ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে বড় ট্রফিটি জিতেছে। অথচ তার প্রথম প্রবৃত্তি উদযাপন করা ছিল না, বরং মাঠ পেরিয়ে যাওয়া এবং ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তে প্রতিপক্ষকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেওয়া। ফুটবল এমন সব মুহূর্তে পূর্ণ, যা জীবনের চেয়েও বড় মনে হয়। ওই মুহূর্তটি অত্যন্ত মানবিকভাবে অনুভূত হয়েছিল এবং এটিই সেই মুহূর্ত যা চিরস্থায়ী হবে।’ 

অনুষ্ঠানে ব্যক্তিগত কারণে উপস্থিত থাকতে না পারলেও পিএসজি সভাপতি নাসের আল-খেলাইফি মার্কিনহোসের পক্ষে ট্রফিটি গ্রহণ করেন। পরে এক ভিডিও বার্তায় নিজের অনুভূতির কথা জানিয়ে মার্কিনহোস গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি এই পুরস্কারের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমি বিশ্বাস করি ফেয়ার প্লে খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তা ফুটবল হোক কিংবা জীবন।’ 

নিজের ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে এই ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার আরও যোগ করেন, ‘আমি আমার সতীর্থ, প্রতিপক্ষ, রেফারি এবং খেলার সাথে জড়িত সকলের প্রতি সম্মান প্রদর্শন অব্যাহত রাখব। এই পুরস্কার পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত এবং গর্বিত বোধ করছি।’ মাঠের লড়াইয়ের উত্তাপ ছাপিয়ে মানবিক মূল্যবোধের এমন স্বীকৃতি বিশ্ব ফুটবলে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।