নতুন রায় ঘোষণা হলো হলিউড সিনেমা ‘ইট এন্ডস উইথ আস’র প্রধান দুই অভিনয়শিল্পী ব্লেক লাইভলি ও জাস্টিন বালডোনির মধ্যকার মামলার। বালডোনির দায়ের করা মানহানির মামলার বিপরীতে নিজের আইনজীবীদের বিশাল ফি হিসেবে দাবি করা ৮ মিলিয়ন ডলারের বিপরীতে ব্লেক লাইভলিকে মাত্র ৪ লাখ ৭ হাজার ৪৫১ ডলার প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন আদালত। নিউ ইয়র্কের ডিস্ট্রিক্ট জজ লুইস লিম্যান এই রায় ঘোষণা করেন।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের চলচ্চিত্র ‘ইট এন্ডস উইথ আস’-এর শুটিং সেট থেকে। ছবির প্রধান অভিনেত্রী ব্লেক লাইভলি তার সহ-অভিনেতা তথা পরিচালক জাস্টিন বালডোনির বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও পেশাগত প্রতিশোধ নেওয়ার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। জবাবে বালডোনিও লাইভলির বিরুদ্ধে নিজের মানহানি হয়েছে দাবি করে পাল্টা মামলা ঠুকে দেন। তবে ২০২৫ সালে আদালত বালডোনির মানহানির আবেদনটি খারিজ করে দিলে লাইভলি দাবি করেন যে, এই অন্যায্য মামলার বিরুদ্ধে লড়তে তার ৮ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে, যা বালডোনিকেই বহন করতে হবে।
বিচারক লুইস লিম্যান লাইভলির দাবিকৃত অর্থের পরিমাণের তীব্র সমালোচনা করে জানান, কেবল একটি মানহানির মামলার সুরক্ষায় যতজন আইনজীবী এবং যে পরিমাণ সময় দরকার ছিল, লাইভলির টিম তার চেয়ে অনেক বেশি দাবি করেছে। বিচারক একে হিসেব-নিকাশের অগোছালো বা যত্রতত্র পদ্ধতি বলে আখ্যা দেন এবং সম্পূর্ণ ৮ মিলিয়ন ডলারের বদলে মাত্র ৪ লাখ ডলার দেওয়ার নির্দেশ জারি করেন।
ক্যালিফোর্নিয়ার ২০২৩ সালের একটি বিশেষ আইনের ওপর ভিত্তি করে এই অর্থ মঞ্জুর করা হয়, যা মূলত যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে কথা বলা নারীদের ওপর পাল্টা প্রতিশোধমূলক মানহানির মামলা ঠেকানোর উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল। এর আগে চলতি বছরের শুরুতেই লাইভলির আনা যৌন হয়রানির মূল অভিযোগটি আদালত খারিজ করে দিয়েছিল এবং পরবর্তীতে দুই পক্ষই আদালতের বাইরে একটি আপস-সমঝোতায় পৌঁছেছিল।
আদালতের এই অদ্ভুত রায়ের পর দুই পক্ষই নিজেদের বিজয়ী দাবি করছে। ব্লেক লাইভলির আইনি দলের মতে, ক্যালিফোর্নিয়ার এই আইনের অধীনে প্রথমবারের মতো ক্ষতিপূরণ পাওয়া একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত, যা প্রমাণ করে প্রতিশোধমূলক মামলা করে রেহাই পাওয়া যায় না।অন্যদিকে জাস্টিন বালডোনির প্রধান আইনজীবী ব্রায়ান ফ্রিডম্যান রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘এই রায় আমাদের জন্য বড় জয়।’