ডেপুটি স্পিকার

গাছ একটা হত্যা করলে ১০টা জন্ম নেবে

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় বাধাঁর পাশে রোপণ করা গাছের চারা উপড়ে ফেলে নষ্টকারীদের গাছ হত্যাকারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কাসার কামাল। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেছেন, তোমরা একটা হত্যা করবা, আরও ১০টা জন্ম নেবে। 

শুক্রবার (২৮ আগষ্ট) দুপুরে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাবনী গ্রামে নেত্রকোনা-কলমাকান্দা সড়কের পাশে গাছের চারা উপড়ে ফেলা স্থানে শত গাছ রোপণের উদ্বোধন করে তিনি এ কথা বলেন ।

গাছ হত্যাকারীদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া নেয়ার নির্দেশ ডেপুটি স্পিকার বলেন, আমাদের নির্বাচনী এলাকার আর পাশাপাশি অন্য এলাকাসহ প্রায় ১২০০ গাছের বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি বিএনপির নেতৃত্বে যুবদল, ছাত্রদল নিয়েছিল।

সেই কর্মসূচিটা শুরু হয়েছিল ১ আগস্ট থেকে। ফ্যাসিষ্টবিরোধী দিবসকে স্মরণীয় দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এই গাছগুলো লাগানো হয়েছিল। কিন্তু গত বুধবার রাতে এই গাছগুলো কে বা কারা ইচ্ছাকৃতভাবে অসৎ উদ্দেশ্যে হত্যা করেছে। এখন পর্যন্ত ৪৮ ঘন্টা হয়েছে, গাছ হত্যাকারীদের এখন পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসন খুঁজে পায়নি, যা নিন্দনীয়। আমি এসেছি একটা মেসেজ দেওয়ার জন্য তোমরা একটা হত্যা করবা, আরও ১০টা জন্ম  নেবে।

তিনি বলেন, ৩৫টা বা ৪০টা গাছ হত্যা করেছে, সেই ৩৫টা-৪০টার বিপরীতে আরও ১৫০ গাছ লাগানো হবে। এই সামাজিক আন্দোলনকে আমরা গতিশীল করার জন্য আজকে এই উদ্বোধনটা করেছি আমি নতুনভাবে।

আমাদের মেসেজ অত্যন্ত পরিষ্কার প্রধানমন্ত্রী সারা বাংলাদেশে ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ করার কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। ভৌগোলিক ও পরিবেশগত দিক থেকে নেত্রকোনা জেলা চরম পিছিয়ে রয়েছে। একটি অঞ্চলের মোট ল্যান্ডের অন্তত ২৫ শতাংশ বৃক্ষ থাকা প্রয়োজন হলেও নেত্রকোনায় বর্তমানে তা মাত্র পৌনে ২ শতাংশ। যেখানে দেশের অন্যান্য স্থানে এই গড়ের পরিমাণ ১৬ থেকে ২০ শতাংশ, সেখানে নেত্রকোনার এই অবস্থা উদ্বেগজনক।

তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানাব। যেন বৃক্ষরোপণকে একটি ব্যাপক ও ম্যাসিভ কর্মসূচিতে রূপ দেওয়া হয়। যাতে আগামী দুই বছরের মধ্যে জেলাটি অন্তত ৫ থেকে ১০ শতাংশ বৃক্ষ আচ্ছাদিত এলাকায় উন্নীত হতে পারে। একই সাথে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, চ্যারিটেবল অর্গানাইজেশন, প্রেসক্লাব এবং স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের এই সামাজিক আন্দোলনে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান।

উদাহরণ হিসেবে দুর্গাপুরে প্রেসক্লাবে লজিস্টিক সাপোর্ট দিয়ে প্রেসক্লাবের উদ্যোগে সফলভাবে বৃক্ষরোপণ সম্পন্ন করা হয়েছে বলেও জানান। রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত অংশগ্রহণে আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণের টার্গেট পূরণ করা সম্ভব হলে বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের (ক্লাইমেট চেঞ্জ) প্রভাবও মোকাবেলা করা সম্ভব হবে।