পীর আল্লামা সাবির শাহ

মানবতার সর্বোত্তম আদর্শ মুহাম্মদ (স.) এর জীবন

সিরিকোট দরবারে আলিয়া কাদেরিয়ার সাজ্জাদানশীন পীর আল্লামা সৈয়দ মুহম্মদ সাবির শাহ বলেছেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (স.) এর জীবন মানবতার জন্য সর্বোত্তম আদর্শ।

তিনি অন্ধকারাচ্ছন্ন পৃথিবীতে সত্য, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিকতার শিক্ষা নিয়ে আবির্ভূত হয়েছেন। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করলেই সমাজ থেকে হিংসা, বিদ্বেষ, অন্যায় ও অশান্তি দূর করা সম্ভব।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) চট্টগ্রামের ষোলশহরে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা ময়দানে পবিত্র জুমার নামাজ পরবর্তী মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

আল্লামা সাবির শাহ বলেন, আল্লাহর হাবিব হজরত মুহাম্মদ মোস্তফা সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শুভাগমন সমগ্র মানবজাতির জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামত ও রহমত। তাঁর শুভাগমনে আনন্দ প্রকাশ করা ঈমানদার মুসলমানের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।

মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় হাবিবকে সমগ্র জগতের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছেন। তাই নবীপ্রেমে আনন্দ প্রকাশ এবং তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম পাঠের মাধ্যমে দিনটি স্মরণ করা মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কুরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জুলুসকে বৈধ, শরীয়ত সম্মত ও আমলে হাসনাহ হিসেবে উল্লেখ করেন।

বিদাত নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে বিদাত দুই প্রকার। বিদাতে হাসনাহ ও বিদাতে সাইয়্যাহ। হজরত ওসমান (র.) পবিত্র কুরআান শরীফকে একত্রিত ও সুবিন্যাস্ত করেছেন, উমাইয়া খলিফা ওয়ালিদের সময়কালে কুরআনে নোকতা দেয়া হয়- এগুলো আবিস্কার নতুন, কিন্তু উম্মতের কল্যাণে, কুরআনকে বিশুদ্ধভাবে পড়ার জন্য জরুরি ছিল।

অনুরূপ যখন ইসলামের নামে প্রিয় নবী (স.) এর মিলাদ নিয়ে, তাঁর শান মান নিয়ে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, তখন জমহুর আকাবেরিন মৌলুদে মোস্তফা চালু করেছেন, যা পবিত্র কুরআানের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রচলন হয়েছে। একইভাবে আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়ব শাহ (রহ.) জশনে জুলুস চালু করেছেন ১৯৭৪ সালে। 

তিনি বলেন, জশনে জুলুস শুধু একটি ধর্মীয় শোভাযাত্রা নয়; এটি নবীপ্রেম, শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবতার বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি ঐতিহ্যবাহী আয়োজন। চট্টগ্রামে  ৫৫ বছর ধরে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও ব্যাপকভাবে এ জুলুস অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে শান্তি, সৌহার্দ্য ও মানবিক মূল্যবোধের বার্তা ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বব্যাপী।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে অশান্তি, হিংসা, সংঘাত ও বিভাজন ক্রমেই বাড়ছে। এ অবস্থায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শান্তি ও মানবতার আদর্শের কোনো বিকল্প নেই। তাঁর বিদায় হজের ভাষণে মানবিক মর্যাদা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের যে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।