কষ্ট দেওয়া সহজ, দায়মুক্তি কঠিন

মানুষ অনেক কিছুই ভুলে যায়। সময়ের সঙ্গে মুছে যায় বহু স্মৃতি। কিন্তু কারও দেওয়া কষ্ট, অপমান কিংবা হৃদয়ভাঙা কিছু কথা সহজে মন থেকে মুছে যায় না। আবার আমরা নিজেরাও কখনো কথা, আচরণ কিংবা অসতর্ক মন্তব্যের মাধ্যমে অন্যের মনে এমন ক্ষত তৈরি করি, যার গভীরতা হয়তো আমরা বুঝতেই পারি না। আমরা ভুলে যাই, কিন্তু যার হৃদয়ে আঘাত লাগে, সে হয়তো তা বয়ে বেড়ায় দীর্ঘদিন।

ইসলাম মানুষকে কষ্ট দেওয়া থেকে কঠোরভাবে সতর্ক করে। বিশেষ করে গিবত, অপবাদ, অন্যের অধিকার নষ্ট করা এবং অকারণে কাউকে দুঃখ দেওয়ার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। মানুষ ভুলে গেলেও মহান আল্লাহ কিছুই ভুলে যান না। বান্দার প্রতিটি কথা, প্রতিটি আচরণ এবং প্রতিটি হকের হিসাব তার কাছে সংরক্ষিত।

তাই মানুষের মনে অন্যায়ভাবে কষ্ট দেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। কারও গিবত বা নিন্দা করার ব্যাপারেও সতর্ক থাকুন, যেটা সত্য কিন্তু শুনলে সে কষ্ট পাবে। আর যদি মিথ্যা হয় তবে তো সেটা আরও মারাত্মক। কারণ হয়তো আপনি ভুলে যাবেন কিন্তু সে নাও ভুলতে পারে। যদি সে আপনাকে ক্ষমা না করে তবে আপনার রবও কিন্তু আপনাকে ক্ষমা করবেন না।

মানুষের জন্য ভুলে যাওয়া নেয়ামত বা দুর্বলতা হলেও আমাদের রব কিন্তু প্রতিটি বিষয়ে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্মভাবে জ্ঞাত থাকেন। ইমাম শাফেয়ি (রহ.) তাই সতর্ক করে বলেছেন, ‘কোরআন মাজিদে একটি আয়াত আছে, যা সব গুনাহকারীদের ভীত হওয়ার কারণ হওয়া উচিত।’ তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো ‘কোন আয়াত?’ তিনি বললেন, ‘আর আপনার রব কখনো ভুলে যান না।’ (সুরা মারইয়াম ৬৪)

কখনো কারও গিবত করে ফেললে যদি মনে করেন তার কাছে ক্ষমা চাইলে ভালোর পরিবর্তে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে অর্থাৎ রাগারাগি বা বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে তবে তার কাছে সরাসরি ক্ষমা না চেয়ে আপনি তার জন্য সদকা করে দিতে পারেন। অন্যের কাছে তার প্রশংসা করতে পারেন। অথবা তার জন্য আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে ইসতেগফার করতে পারেন।

ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেন, ‘যার গিবত করা হয়েছে তাকে বিষয়টা জানাতে গেল কোনো লাভ তো হবে না বরং সমস্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। সে ব্যক্তি বিষয়টি জানার আগ পর্যন্ত হয়তো মানসিকভাবে শান্তিতেই ছিল। কিন্তু শোনার পরে তার মানসিক অস্থিরতা বেড়ে যেতে পারে। শোনার পর সে ধৈর্য ক্ষমতা হারিয়ে তার ক্ষতি করে ফেলতে পারে। তাই তার কাছে বলতে যাওয়া ঠিক নয়। বরং তার উচিত, মানুষের কাছে তার প্রশংসা ও সুনাম করে বদনামের ক্ষতিপূরণ করা এবং তার জন্য মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ও দোয়া করা। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম করুণার আধার।’

লেখক : মাদ্রাসাশিক্ষক ও ধর্মীয় নিবন্ধকার