চলতি ভাদ্র মাসের রেকর্ড বৃষ্টিপাত এবং হরিহর নদ পুনঃখননেও পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় মনিরামপুরে আগাম শীতকালীন সবজির বীজতলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। চড়া দামের বীজ কিনে শীতকালীন সবজির বীজতলা তৈরি করে তা নষ্ট হওয়ায় লোকসান এড়াতে উপজেলার প্রান্তিক সবজি চাষীরা স্বল্পমেয়াদী শাক চাষের দিকে ঝুঁকছেন। সরকারি হিসাবে পনেরো লক্ষ টাকা নির্ধারণ করা হলেও কৃষক পর্যায়ে লোকসান কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, খরিফ মৌসুমে মনিরামপুর উপজেলায় সবজি চাষে ১৬৪০ হেক্টরের মধ্যে ৮১২ হেক্টর জমিতে লক্ষমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে। মোট লক্ষ্যমাত্রার মাত্রায় ক্ষতির হার ০.৭৩ শতাংশ। সেই অনুযায়ী কাগজ-কলমে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ পনেরো লক্ষ টাকা।
এদিকে, মাঠপর্যায়ের চিত্র, কৃষক এবং স্থানীয় বীজ বিক্রেতাদের তথ্য বিশ্লেষণ করলে সরকারি এই হিসাবের সাথে বাস্তবতার বড় গরমিল চোখে পড়ে। মনিরামপুর বাজারের কয়েকজন বড় বীজ ডিলার জানান, ইতিমধ্যে নয় লক্ষ টাকার বিভিন্ন প্রকার সবজি বীজ বিক্রয় হয়েছে, এর মধ্যে শাকের বীজই বেশি। তবে, গত বছরের তুলনায় দীর্ঘমেয়াদী ও দামি সবজির বীজ বিক্রির পরিমাণ অনেক কমে গেছে।
উপজেলার সবজি জোন নামে খ্যাত রোহিতা, কাশিমনগর, মনিরামপুর, খেদাপাড়া, হরিহরনগর, ঝাঁপা, মশ্মিমনগর ও চালুয়াহাটি ইউনিয়নে আগাম জাতের ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, বেগুন ও শিম সহ বিভিন্ন প্রকার সবজির ব্যাপক হারে চাষ হয়ে থাকে।
আগস্টের টানা বৃষ্টি এবং ভ্যাপসা গরমে ছত্রাকের আক্রমণে তাদের বীজতলা ও চারা পচে তছনছ হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ে রোগবালাই ও চারা পচা রোধে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের কার্যকর পরামর্শ পাচ্ছেন না। অনেক ক্ষেত্রে সরকারি খাতায় কৃষকের বীজতলার সঠিক কোনো হিসাবই থাকছে না।
উপজেলার কাশিমনগর ইউনিয়নের কৃষক রোস্তম আলী বলেন, বীজির যা দাম, তাতে কৃষকেরা কিছু করে খাতি পারবেনা, বৃস্টিতি চারা নষ্ট হয়েছে তাই আমরা বিভিন্ন ধরনের শাক লাগাইছি। কারণ ১৮ থেকে ২৫ দিন পর বাজারে বিক্রি করা যায়। এতে যদি কিছু খরচের টাকা ওঠে।
মশ্বিমনগরের কৃষক আবু হানিফা জানান, তার এক একর জমিতে সীম গাছে সীম ধরা শুরু হয়েছে, আগাম বিক্রয়ে ভাল দামের আশা করছেন তিনি।অন্য এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা কৃষকদের কথা শোনেন না। কৃষকের উপকারে খাল পুনরায় খনন না করে টাকা ফেরত দেয়।
মনিরামপুর এলাকার কৃষক হাফিজুর রহমান বলেন, মাঠের পানি সরলই না, তরকারি চাষে লুকসান হবে। এবার চড়া দামে কপি বা টমেটোর বীজ ফেলতি সাহস পাইনি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হরিহর নদ তো কাটিনি, বাড় দিয়ে ছাটাই করে গেছে। ভাটর সময় মাঠের পানি সরানের কেউ নেই।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শাহরিয়া হোসেন দৈনিক দেশরূপান্তরকে বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কিছু বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলার যে সব মাঠের পানি, হরিহর নদে নিষ্কাশন করা সহজ তার দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি স্থানীয় সচেতন মহলের।